তিস্তার গর্ভে ১টি বিদ্যালয় ৬াট গ্রাম-হুমকীর মুখে বিজিবি ক্যাম্পউজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসলেও ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার দুপুরে থেকে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইটি বিল্ডিং দেবে যেতে শুর” করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষার জর”রী ভিত্তিতে বালুর বস্তা ও বাশের পাইলিং করার জন্য উপজেলা কর্মকর্তা নির্দেশ দিলেও বন্যার কারনে সম্ভব হয়ে উঠছে না। বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তা বিলিন হওয়ার পর নতুন এবং পুরনাতন ভবন দেবে যাচ্ছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ছাত্রনেতা ময়নুল হক জানান, গত দুই দফায় তিস্তার উজানের ঢলের তান্ডবে তিনটি ওয়াডের ৬টি গ্রাম চরখড়িবাড়ি, মধ্য চড়খড়িবাড়ি পূর্বখড়িবাড়ি, টাপুরচর, ঝিঞ্জিরপাড়া ও মেহেরটারী পুরাত টাপুরচর তছনছ হয়ে গেছে। গৃহহীন হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিলিন হতে বসেছে মধ্য চরখড়িবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ও নতুন পাকা ভবন ২টি। এদিকে চরখড়িবাড়ি সীমান্তে রয়েছে বিজিপির ক্যাম্প। এই ক্যাম্পটির তিস্তার ভাঙ্গনের হুমকীর মুখে পড়েছে। ৭ বিজিবি’র পক্ষে ওই বিওপি ক্যাম্প থেকে সরকারী মুল্যবান সম্পদ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সুত্র বলছে নদীর মুল গতীপথ পরিবর্তন হয়ে এখন চরখড়িবাড়ি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানায় এলাকাবাসী ত্রান চায়না তারা গ্রাম রক্ষার জন্য চায় জর”রী ভিত্তিতে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ। বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন, ডিমলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলাম, ইউএনও রেজাউল করিম ও উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি প্রতিনিধি দল। উক্ত এলাকায় ১২ মেট্রিক টন চাল ও ৪০ হাজার টাকা বিতরন করা হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এসব এলাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে ডিমলা উপজেলা ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের পূর্বছাতুনামা ফরেষ্টের চরের ৭শত পরিবারের ঘরবাড়ির ভেতর দিয়ে নদীর পানি বয়ে যাচ্ছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান। তিনি বলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা ফসলের উপর নির্ভরশীল। চলতি আমনে তারা ৩০ মন ধানের বীজতলা তৈরী করেছিল। যা বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করতো। সে সব আমনের বীজতলা বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। অপর দিকে তিস্তার বন্যা ও ভাঙ্গনের শিকার হাজার হাজার পরিবার এখন ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিরাপদস্থানে চলে যাচ্ছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান এ পর্যন্ত দুই দফায় গত ২৩ জুন বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার  ও ২৫ জুন বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হলে ১০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। সোমবার বিকাল দুপুর ১ টা পর্যন্ত তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ বিষয়ে নীলফামারী-১(ডামার-ডিমলা)আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমি সংসদ অধিবেশনের কারনে ঢাকায় থাকলেও বন্যা কবলিত এলাকার সার্বক্ষনিক খোজ খবর নিচ্ছি। এবং দলীয়ভাবে সার্বক্ষনিক বন্যার্তদের খোজ খবর ও পাশে থাকার জন্য একটি প্রতিনিধি দল তৈরী করে দেয়া হয়েছে। বন্যা ও ভাঙ্গনের কারনে টেপাখড়িবাড়ীর চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বালির বস্তা ফেলে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য