যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় গৃহবধুকে নির্যাতনলালমনিরহাটের মোগলহাটে ইউনিয়নে যৌতুকের অবশিষ্ট টাকা দিতে না পারায় স্বামী ও তার শশুরবাড়ির লোকজনের অমানবিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মৃত্যুর সংঙ্গে পাঞ্জ লড়ছেন গৃহবধু লাকী আক্তার (২২)। ওই গৃহবধু দুইদিন ধরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে লাকী বেগমের সাথে সদর উপজেলার পার্শ্ববতী মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের আব্দুলের ছেলে আজিজ এর সাথে ৮ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আজিজ ও তার পরিবার।

মেয়ের সুখের কথা ভেবে ১৫ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে দেয়া হয় আজিজকে। তারপরও মাঝে মধ্যেই যৌতুকের দাবিকৃত অবশিষ্ট টাকার জন্য লাকীর উপর প্রায়ই নির্যাতন চালাতো আজিজ ও তার পরিবার।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লাকীকে তার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের অবশিষ্ট টাকার জন্য  নিয়ে আসার জন্য চাপ দেন তার স্বামী ও তার শশুরবাড়ির লোকজন। লাকী টাকা আনতে পারবেনা জানালে, রাতে তার স্বামী, শ্বাশুরী, ননদসহ কয়েকজন লাঠি নিয়ে লাকীর উপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে লাকী গুরুত্বর আহত হলে তাকে বাড়ির বাইরে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয় লোকজন লাকীর বাড়িতে খবর দিলে তারা এসে তাকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।

আহত লাকী আক্তার জানায়, যৌতুকের জন্য প্রায় সময় তার শাশুরী, ননদ ও স্বামী নির্যাতন চালাতো। দুই বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে তাদের নির্যাতন সহ্য করে এতদিন এসেছি।

লাকীর মা মনোয়ারা বেগম জানান, মেয়ের সুখের কথা ভেবে জামাইকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি। তারপরেও মেয়ের উপর বিভিন্ন সময়ে চালাতো নির্যাতন। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেছি।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ডা: আজমল হক জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া গৃহবধু লাকীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্তা কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম মাহফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপুর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য