বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জকে সামনে এনেছে ব্রিটিশ গণভোটচলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসা) বিপক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সে সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় জোটকে প্রাধান্য দেবে। সেক্ষেত্রে ব্রিটেন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরণের বাণিজ্য চুক্তিতে দেশটি শেষের কাতারে চলে যাবে। কেননা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহসা কোনও বাণিজ্য চুক্তি করার সম্ভাবনা থাকবে না। তবে ওবামার সে সতর্ক বার্তার পরও ২৩ জুন (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষেই রায় দিয়েছে ব্রিটিশ জনগণ।

গণভোটের ফলাফলের ব্যাপারে অসন্তোষ থাকলেও ওবামা বলছেন, তিনি ব্রিটিশ জনগণের রায়কে সম্মান করেন। এই গণভোটের উৎসও অনুসন্ধান করেছেন ওবামা।  তিনি মনে করছেন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি গণভোট আয়োজনের বাস্তব ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী উল্লেখ করে ওবামা আরও বলেন, এ সম্পর্ক বজায় থাকবে। যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে নাকি জোটটি থেকে আলাদা হয়ে যাবে সে প্রশ্নে বৃটিশরা বৃহস্পতিবার গণভোটে অংশ নেন। গত শুক্রবার পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, ব্রিটিশ জনগণের রায় ইইউ ছাড়ার পক্ষেই গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫২ শতাংশ ভোটার আর থাকার পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৮ শতাংশ। এ রায়ের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গত শুক্রবার একটি বিবৃতি দেন ওবামা।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের জনগণ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আমরা তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী। ন্যাটোতে যুক্তরাজ্যের সদস্যপদ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।’ যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অটুট থাকবে উল্লেখ করে ওবামা আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য বন্ধু হিসেবে থাকবে। এমনকি ইউরোপ, ব্রিটেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং বিশ্বে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ইইউ-যুক্তরাজ্যের চলমান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরুর পরও সম্পর্ক অটুট থাকবে।’ সিলিকন ভ্যালি সফরে গিয়ে বারাক ওবামা বলেন, ‘বিশ্বায়নের কারণে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ ও পরিবর্তনের প্রশ্ন সামনে এনেছে যুক্তরাজ্যের গণভোট।’ ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার প্রশ্নে গণভোট আয়োজন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিট ইস্যুর অবসানের ব্যাপারে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলেও জানান ওবামা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে নাকি জোটটি থেকে আলাদা হয়ে যাবে সে প্রশ্নে বৃটিশরা বৃহস্পতিবার গণভোটে অংশ নেন। গত শুক্রবার পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, ব্রিটিশ জনগণের রায় ইইউ ছাড়ার পক্ষেই গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫২ শতাংশ ভোটার আর থাকার পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৮ শতাংশ। এ রায়ের পর অক্টোবর নাগাদ পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দেন ডেভিড ক্যামেরন। দল থেকে অন্য কোনও নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীই ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চালাবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য