দিনাজপুর জেলা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার আয়োজনে আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীওয়েব ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী কেক কেটে বর্ণিলভাবে উদযাপন করেছে দিনাজপুর জেলা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা। ২৩ জুন বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার দিনাজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান নোবেলের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা আশফাক হোসেন, জেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ সাইফুল ইসলাম।

সভায় প্রধান অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাডঃ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি বলেন, ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকা ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে উপমহাদেশের প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সংগঠনের নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও শামসুল হক।

এ সময় পূর্ব পাকিস্তানের তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পাক কারাগারে বন্দি। বন্দি অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতভাবে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিলে মওলানা ভাসানীকে পুনরায় সভাপতি ও শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। ১৯৫৫ সালে দলের তৃতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হয়। মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।

এই কাউন্সিলে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকে। ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে দলের আন্তর্জাতিক নীতির প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দী-ভাসানী মত পার্থ্যকের কারনে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে গেলেও মূল দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে ৬৬ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিব সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই বছর দলের কাউন্সিলে শেখ মুজিবুর রহমানকে সভাপতি ও তাজ উদ্দিন আহম্মেদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

এরপর ৬৮ ও ৭০ সালের কাউন্সিলেও ওই কমিটি অপরিবর্তিত থাকে। এই কমিটির নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া এ দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাকিস্তানী সামরিক শাসন জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন ও শোষনের বিরুদ্ধে সব আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে এ দলটি। ৫২ ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যূত্থান ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে দলটি তাৎপর্যপুর্ণ নেতৃত্ব দেয়।

এর পাশাপাশি দলটি এ দেশের গণমানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে নিরলসভাবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। সহযোগি সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা এ দেশের শিশু কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের জন্য কাজ করে আসছে। তাই সবাইকে স্ব স্ব স্থান থেকে এ সংগঠনকে সহায়তা প্রদান করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য