যমুনার ভাঙনে দু’টি গ্রামের অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীনআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় গত দুই সপ্তাহে যমুনার ভাঙনে দু’টি গ্রামের অন্তত অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১’শ ৫০ বিঘা উঠতি পাটক্ষেত, আবাদি জমি, ঈদগাহ মাঠ ও অসংখ্য গাছপালা বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়া ও  গোবিন্দপুর গ্রামের গৃহহীন প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ স্থানীয় বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। যমুনার পাড়ে বালুর ব্যাগ ফেলে প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পাউবো জানান। তবে তারা সুদূর প্রসারী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, বর্ষা মৌসুমে যমুনার পানি বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই ভাঙনের প্রবণতা বাড়ে। আর দফায়-দফায় বৃষ্টিপাতে ভাঙন বেশি হয়েছে। হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী বলেন, প্রতিদিন গড়ে চার  থেকে পাঁচ ফুট এলাকা বিলীন হচ্ছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে অল্পদিনের মধ্যে গোটা কানাইপাড়া গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হবে। কিন্ত বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও পাউবো নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একই ইউনিয়নের কানাইপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ (৫০) বলেন, সাতদিনের ব্যবধানে যমুনার ভাঙনে আমার তিনটি ঘর ও একবিঘা জমির পাটক্ষেত বিলীন হয়ে গেছে। আমরা সরকারি জায়গায় ঘর তুলে আছি; কিন্তু ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সরেজমিনে কানাইপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয়রা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ উঠতি পাট কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। ওই গ্রামের রমিছা বেগম (৪৫) বলেন, “বাবা হামার নাম কোনাও নেকি নেও। কয়দিন আগে হামারঘরে দুইটে ঘর এক বিঘে জমির কোসটা (পাট) নদিত গেচে। তকন থাকি মানষের বাড়িত আচি।” দুই বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেই সংসার চলত একই গ্রামের কৃষক জাফর আলীর (৫০)। পাটসহ সেই জমিও বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে।

নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, হলদিয়া ইউনিয়নে ভাঙন রোধে বালুভরতি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, ভরতখালি, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে ভাঙন রোধে ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে ওই এলাকায় ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য