01. shafin-ahmedটি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিবি সেলিব্রেশন কনসার্ট নিয়ে চলছে নানা বির্তক। অভিযোগের কাদা ছোঁড়াছুঁড়িও চলছে এ আয়োজনকে ঘিরে। মাইলস ব্যান্ডের ভোকাল শাফিন আহমেদও কনসার্টে পারফর্ম না করতে পেরে নিজের ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তবে এবার তিনি মুখ খুলেছেন পুরো আয়োজন নিয়ে।

আবারো ফেসবুকের মাধ্যমেই নিজের অভিযোগগুলো তুলে ধরলেন শাফিন। ৯ মিনিটের একটি ভিডিও আপলোড করে সেখানে তুলে ধরেন আয়োজনের বিস্তারিত ঘটনা। এই কনসাটের্র মাধ্যমে ভারতীয় শিল্পীদের প্রধান্য দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশের শিল্পীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং তাদের অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শাফিন আহমেদ।

সোমবার রাত পৌনে ২টায় শাফিন আহমেদ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ৯ মিনিটে ৩২ সেকেন্ডের এই ভিডিও ফুটেজটি আপলোড করেন। ফুটেজের শুরুতেই দেখা যায়, শাফিন তার নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। এরপর বলেন, “আজ আমি আপনাদের কাছে কিছু তথ্য তুলে ধরবো।

ভিডিওতে শাফিন বলেন, টি-টুয়েন্টি ওয়ার্ল্ডকাপের ওপেনিং সেরিমনিটা যেটা ১৩ তারিখ অনুষ্ঠিত হলো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে, সেই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কিছু কথা বলার প্রয়োজন মনে করছি। বিকজ, ক্রিকেটকে ঘিরে যে অনুষ্ঠানগুলো রিসেন্ট বছরগুলোতে দেখে আসছি, এতে পার্টিকুলারভাবে দেখতে পাচ্ছি একটি দেশের প্রাধান্য। একটি বিশেষ দেশের কালচারাল আধিপত্য লক্ষ করছি। আমার মনে হয়, এটা শুধু আমি না দেশের সকল ক্রিকেট ফ্যান ও সঙ্গীত পিপাসু মানুষরা এ ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য করছে। সুতরাং আমাদের আর কতোদিন লাগবে, কবে আমরা বুঝবো, এতো টাকার অনুষ্ঠান ফরেন আর্টিষ্ট দিয়ে করানো হচ্ছে, যেটা পছন্দ করছে না মানুষ?

তিনি বলেন, আমি মনে করি, যেহেতু এটা ওয়ার্ল্ডকাপ। ক্রিকেট টুনামেন্টটি ১৫/১৬ টা দেশ নিয়ে হচ্ছে। তাই প্রতিটা অংশগ্রহণকারী দেশ এতে অংশ নিতে পারতো। যেহেতু ওয়ার্ল্ড কাপ সেহেতু পুরো অনুষ্ঠান ইংরেজিতে ইন্টারন্যাশনাল ল্যাক্সগুয়েজে হতে পারতো। আরেকটা জিনিস হতে পারতো যেহেতু বাংলাদেশে হচ্ছে, তাই আমরা বাংলাদেশের কালচার তুলে ধরতে পারতাম।

এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, যেহেতু ১৫/১৬ টা দেশ এতে অংশ নিচ্ছে তাহলে হিন্দিতে কেন হলো? এতো বিগ বাজেটের একটা আইটেম কেনো এর বিরাট অংশ দেশের বাইরে একটি দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছি তাদের আর্টিস্ট আনার জন্য। এবং তার বিনিময়ে আমরা কী পেলাম? আমরা পেলাম, হিন্দি ফিল্মের কিছু গান, তাও আবার সি গ্রেডের আর্টিস্ট দিয়ে। অর্থাৎ উইথ হিউজ রেসপেক্ট টু এ আর রহমান, তার কম্পোজিশনের গানগুলো প্রেজেন্টেশন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আমরা উদিত নারায়ণকে দেখেছি। কিন্তু তার আশপাশে আমরা আর কী দেখলাম? আমরা দেখেছি, এমন সব আর্টিস্ট যাদের আমরা কেউ চিনি না। আমরা দেখেছি, ড্যান্সারস, যেখানে খুব ভালগার ড্যান্স হয়েছে। যেটার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। ভিডিওটিতে শাফিন আহমেদ তার বক্তব্যে তুলে ধরেন, বাংলাদেশি শিল্পীদের সাথে কী ধরনের বৈষম্য করা হয়েছে। তিনি সেই ফুটেজে উল্লেখ করেন বৈষম্যমূলক নানা ঘটনার কথা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক সিনিয়র এবং সম্মানিত শিল্পীদের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ৩ মিনিট করে এবং ৪টি ব্যান্ডকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০ মিনিট করে। অপরদিকে সন্ধ্যার পর গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত হিন্দি ফিল্মের গান শুনতে হয়েছে এবং একনের গান শুনতে হয়েছে। একনের ব্যাপারটা আই হ্যাভ নাথিং পারসোনাল, বাট পয়েন্ট ইট, একন ইজ এ আমেরিকান আর্টিস্ট। যেই আমেরিকা এই টুর্নামেন্টে নেই।

এই ভিডিওতে তিনি তুলে ধরেন মাইলসকে গাইতে না দেয়ার পেছনে কিছু অভিযোগ। তিনি জানান, তারা (মাইলস) যখন মাঠে প্রবেশ করে তখন আয়োজকদের কেউ তাদের অভ্যর্থনা জানায়নি। কোনো কর্মকর্তাই আসেনি তাদের কাছে। তাদের বাজানোর কথা ছিল ৩ নম্বর ব্যান্ড হিসেবে। চতুর্থ যেই ব্যান্ডদলটির বাজানোর কথা তারা বাজাচ্ছে তাদের জায়গায়।

তিনি বলেন, মাইলস যখন স্টেজের পাশে দাঁড়ানো তখন এলআরবি পারর্ফম করছে। আমাদের দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হলো এলআরবি আমাদের স্লট নিয়ে নিচ্ছে। গ্রের সাথে এ বিষয়ে মাঠে কথা বললেও কোনো উত্তর পাইনি। যে ব্যান্ড আমাদের সময় ধরে বাজিয়ে গেলো তাদের থেকেও কোনো দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি।

শাফিন অভিযোগ করেন, ৩২টি গ্রিনরুম তৈরি করা হয়েছিলো ইন্ডিয়ান আর্টিস্টদের জন্য। প্রতিটা রুম ছিল এয়ার কন্ডিশনড, রিফ্রেশমেন্ট ছিল, ফুড ছিল। আর মাঠের অপর পাশে করা হয়েছিলো বাংলাদেশি আর্টিস্টদের গ্রিনরুম, যেটা শুধুমাত্র বাঁশের খুঁটির সাথে কাপড় দিয়ে ঘেরা। নো এসি, নো রিফ্রেশমেন্ট, নাথিং। কেনো? আমরা অনুষ্ঠান করছি বাংলাদেশে, আমরা অনুষ্ঠান করছি বাংলাদেশের মাটিতে… কেন আমাদের এই সিচুয়েশনটা ফেস করতে হলো?

আমি গ্রে থেকে এবং যারা এই অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিল তাদের থেকে একটা বক্তব্য আশা করতেই পারি যে, কেন এই ধরনের বৈষম্য হলো? এবং কেন মাইলস বাজাতে পারলো না, অনুষ্ঠান এতো নিম্নমানের কেন হলো, একটা ভাষায় কেন হলো?।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য