বিরল উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ভোট শনিবারওয়েব ডেস্কঃ ৬ষ্ঠ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরলের ৫ টি ইউনিয়নে প্রচারণার শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে প্রার্থীরা এখন নিজেদের বিজয়ের প্রহর গুণছে। এর মধ্যে আচরণ বিধি লঙ্ঘণের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জরিমানা আদায় করেছে। বিরলের ৫ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২১ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৬৩ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

৩ নং ধামইর ইউনিয়নে উপজেলা আ’লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মসলেম উদ্দীন (নৌকা), ইউপি বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তোজাম্মেল হক (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (মোটরসাইকেল),স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আকতারুল ইসলাম (আনারস), ৪ নং শহরগ্রাম ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুল ইসলাম  (ঘোড়া), ইউপি বিএনপি’র সভাপতি মোঃ সালেহ উর রহমান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আব্দুর রহমান (চশমা), ইউপি আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হাছান আলী (আনারস), ইউপি ন্যাপের সভাপতি মাহবুব আলম (কুড়ে ঘর), ৬ নং ভান্ডারা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুর রহমান (আনারস), ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মামুনূর রশিদ মামুন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম আজাদ (মোটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম আবু (ঘোড়া), ইউপি বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আব্দুল মালেক (চশমা), ৯ নং মঙ্গলপুর ইউনিয়নে ইউপি আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ সেরাজুল ইসলাম (নৌকা), ইউপি বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান কছিম উদ্দীন আহমেদ (চশমা), ১০ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ইউপি বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোঃ মোজাহারুল ইসলাম (ধানের শীষ), ইউপি আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফারুক আজম (নৌকা) মার্কা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

৩ নং ধামইর ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ৩১ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৯ জন, ৪ নং শহরগ্রাম ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ৩৩ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১২ জন, ৬ নং ভান্ডারা ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ৩৬ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১১ জন, ৯ নং মঙ্গলপুর ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ৩৩ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ জন, ১০ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ৩০ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। ০৪ জুন শনিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৫ টি ইউনিয়নে ৪৫ টি ওয়ার্ডে ৪৭ টি কেন্দ্রে ৩২৩ টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

৩ নং ধামইর ইউনিয়নে ৭ হাজার ২ শ’ ৯৯ জন পুরুষ ও ৭ হাজার ১ শ’ ৩৬ জন নারী ভোটারসহ মোট ভোটার ১৪ হাজার ৪শ’ ৩৫ জন, ৪ নং শহরগ্রাম ইউনিয়নে ৯ হাজার ৩ শ’ ১৮ জন পুরুষ ও ৯ হাজার ১ শ’ ২৯ জন নারী ভোটারসহ মোট ভোটার ১৮ হাজার ৪শ’ ৪৭ জন, ৬ নং ভান্ডারা ইউনিয়নে ৮ হাজার ২ শ’ ৯৯ জন পুরুষ ভোটার ও ৮ হাজার ২ শ’ ৩ জন নারী ভোটার সহ মোট ভোটার ১৬ হাজার ৫শ’ ২ জন, ৯ নং মঙ্গলপুর ইউনিয়নে ৭ হাজার ৪৪ জন পুরুষ ও ৭ হাজার ১ শ’ ৩ জন নারী ভোটার সহ মোট ভোটার ১৪ হাজার ১শ’ ৪৭ জন ও ১০ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নে ৯ হাজার ১৯ জন পুরুষ ও ৮ হাজার ৯ শ’ ৬৪ জন নারী ভোটার সহ মোট ভোটার ১৭ হাজার ৯ শ’ ৮৩ জন ভোটার। ৫ টি ইউনিয়নে ৪০ হাজার ৯শ’ ৭৯ জন পুরুষ ও ৪০ হাজার ৫ শ’ ৩৫ জন নারী ভোটার সহ মোট ভোটার ৮১ হাজার ৫শ’ ১৪ জন। উপজেল নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল খায়রুম জানান, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশের মোবাইল টিম ও রিজার্ভ টিম এর সমন্বয়ে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা নিবাচন অফিসার মোঃ তকদির আলী সরকার জানান, ৫ টি ইউনিয়নে প্রিজাইডিং অফিসার ৫০ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২৭০ জন ও পোলিং অফিসার ৫৩২ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ১৫ টি, গুরুত্বপূর্ণ ১৬ টি ও সাধারণ ১৬ টি কেন্দ্র চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

সাধারণ ভোটারদের অভিমতে জানা গেছে, ৩ নং ধামইর ইউনিয়নে নৌকা, ধানের শীষ ও মোটরসাইকেল, ৪ নং শহরগ্রাম ইউনিয়নে চশমা, ধানের শীষ, নৌকা ও ঘোড়া, ৬ নং ভান্ডারা ইউনিয়নে আনারস, নৌকা ও ধানের শীষ, ৯ নং মঙ্গলপুর ইউনিয়নে চশমা, নৌকা ও ধানের শীষ এবং ১০ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নে ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের মাঝে তুমূল ভোট যুদ্ধ চলবে। কোন প্রাথীর থেকে কোন অংশে কম প্রচারণা চালায়নি। একে অপরের সাথে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় হবে বলে আশা করছে সাধারণ ভোটাররা। উল্লেখ্য, বিরলের ১ নং আজিমপুর, ২ নং ফরক্কাবাদ, ৫ নং বিরল সদর, ১২ নং রাজারামপুর ইউপি’র সীমানা এবং ৮ নং ধর্মপুর ইউপি’র মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় ও ৭ নং বিজোড়া এবং ১১ নং পলাশবাড়ী ইউপি’র মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় ভোট হচ্ছে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য