arrest Jail 11সৈয়দপুরে একগাড়ী চালককে আটক করে জোড়পূর্বক একশ টাকার ৩টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সহি নেয়ার অপরাধে কামারপুকুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থীসহ ৩ জনকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত।

গত ২৫ মে বিজ্ঞ আমলী আদালত-২ নিলফামারী এর বিচারক তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, শহরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা চালক শহিদুল ইসলাম সংসারের অভাবের তাড়নায় তার নিজস্ব ক্রয়কৃত ট্রাক টাটা-যার নং-ঢাকা-মেট্রো-ড-১৪-১৩৯০, ৭ লাখ টাকায় বিক্রয়ের জন্য গত ৩১/১২/১৪ তারিখ আব্দুর রাজ্জাকের সাথে বায়নামা সম্পাদন হয়। বায়নামা হিসেবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে ট্রাকটি আব্দুর রাজ্জাকে দেয়া হয়। বাকি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে এমন চুক্তিনামা সম্পাদন করেন। ট্রাকটি নেয়ার পর থেকে বাকি টাকা পরিশোধ করতে ওই আব্দুর রাজ্জাক শুরু করে টালবাহানা। এরই মধ্যে পার হয়ে যায় আরও ১৯ মাস। এ বিষয়টি পরবর্তীতে জানানো হয় নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদেরকে।

কয়েক দফায় তারা বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক করে সুরাহা করতে ব্যর্থ হয়। আর এ কারণে তারা ট্রাকটি আবার পূর্বের মালিককে ফেরত দেয়। এরই মধ্যে গত ৪/৯/১৫ তারিখ নিয়ামতপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় ট্রাকের পূর্ব মালিক শহিদুল ইসলামকে একা পেয়ে আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল লতিফ ও মোতাহার হোসেন সহ আরও ৪/৫ জন আটক করে জোরপূর্বক ১০০ টাকার ৩টি ফাঁকা স্ট্যাম্পে সহি নিয়ে ছেড়ে দেয়। ফাঁকা স্ট্যাম্পে সহি নেয়ার বিষয়টিও পরবর্তীতে শ্রমিক নেতাদের জানানো হলে শ্রমিক নেতারা আবার বিষয়টি মীমাংসা করতে বসে ব্যর্থ  হলে গত ৮/৯/১৫ তারিখে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য তারা পরামর্শ দেন।

ওই মরামর্শে ট্রাক-মালিক শহিদুল ইসলাম ৩ জনকে আসামী করে বিজ্ঞ আমলী আদালত-২ নীলফামারীতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ২৫/৫/১৬ তারিখ আসামীরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ৩জনকে জেল হাজতে পাঠায়। আসামীরা জেলে গেছে এমন খবর তার লোকজন জানতে পেরে ওই দিনই সন্ধ্যা ৬ ঘটিকার সময় ট্রাক-মালিক ডোমার থেকে ট্রাক লোড করে সৈয়দপুর আসার পথে ওয়াপদা মোড়ে তাদের লোকজন ট্রাকটি আটক করে তাদের আয়ত্ত্বে নিয়ে যায়। বর্তমানে অসহায় ট্রাক মালিক নিরুপায় হয়ে পথে পথে ঘুরছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য