গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জের প্রবীণ ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র প্রামানিকের হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএসআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বিশিষ্ট জুতা ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র প্রামানিক (৬৮) এর শেষ কৃত্য মহিমাগঞ্জের দেওয়ানতলা মহাশশ্মানে বুধবার রাত ১০টায় সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার সকাল ৬টায় মহিমাগঞ্জ বাজারে বিশিষ্ট জুতা ব্যবসায়ি দেবেশ চন্দ্র প্রামানিককে তার দোকানে জবাই করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মর্মান্তিক এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় লোকে লোকারন্য হয়ে পড়ে গোটা মহিমাগঞ্জ বাজার এলাকা। এই অবস্থায় পুলিশের তদন্তের অপেক্ষায় লাশ সকাল ১০টা পর্যন্ত ওই দোকানেই পড়ে থাকে। পরে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ পোষ্টমর্টেমের জন্য গাইবান্ধা মর্গে নিয়ে যায়। অতঃপর রাত ৮টায় পোষ্টমর্টেম শেষে দেবেশ চন্দ্রের লাশ পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় হৃদয়বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দেবেশ চন্দ্রের স্ত্রী আনন্দ রাণী, মেয়ে মনাসহ অন্যান্য ছেলেমেয়ে ও পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তাদের শুধু একটি প্রশ্ন অজাত শত্র“ এই রকম সাদাসিদা নিঅহংকারি মানুষ। তদুপরি যে মূলতঃ শারীরিক প্রতিবন্ধী। যার ডান পায়ের পাতাটি না থাকায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলাফেরা করতে হয়। কেন নির্মমভাবে জবাই করে এমন একজন মানুষকে হত্যা করা হলো। এর উত্তর তারা কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছে না।

তবে স্থানীয় লোকজনদের কাছে জানা গেছে, হত্যাকান্ডটি যে পরিকল্পিত এবং পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছিল তা জানা যায় দেবেশ চন্দ্র দোকান খোলার আগে থেকেই দুটি মটর সাইকেল সেখানে ষ্ট্যান্ড করা ছিল। যে মটর সাইকেল দুটিতে খুনিরা কিলিং মিশন সম্পন্ন করে পালিয়ে যায়। এছাড়া গোবিন্দগঞ্জে তরুণ দত্তকে যেভাবে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জবাই করা হয়েছে। তেমনি একই ধরণের চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে দেবেশ চন্দ্রকেও জবাই করে হত্যা করা হয়। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে যে, দুটি কিলিং মিশন একই সুত্রে গাঁথা।

এদিকে তার হত্যার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। আইএসের সহযোগী সংবাদ সংস্থা ‘আমাক’ এর বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্র থেকে গাইবান্ধায় জোর গুজব রুটেছে। ওই ওয়েব সাইটের ম্যাসেজে উল্লেখ করা হয়েছে যে- ‘বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা’। তবে তাদের কথিত ওয়েব সাইট siteintelligencegroup চেক করেও তাদের ম্যাসেজের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ ও পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেন। এছাড়া নিহত দেবেশ চন্দ্রের পরিবারকে নিরাপত্তার সাথে জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। এ খবর লেখা পর্যন্ত এই খুনের ৩০ ঘন্টা অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ এই খুনের রহস্য এবং খুনিদের সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়নি। এছাড়া সন্দেহজনকভাবে আর কাউকে গ্রেফতারও করেনি। তবে পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই খুনের বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্বসহ বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে খুব স্বল্পতম সময়ে এই খুনের রহস্য উদঘাটনসহ খুনিদের গ্রেফতারে সক্ষম হবে বলে পুলিশ আশাবাদি।

এদিকে পুলিশ সুত্র থেকে জানানো হয়েছে, খুনের ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে যে নৃপেন চন্দ্রকে আটক করা হয়েছিল তার সাথে এই খুনের কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। মূলতঃ সে একজন ছিচকে চোর এবং মাদকাসক্ত। টাকা পয়সা সংক্রান্ত গোলযোগকে কেন্দ্র করে একবার নিহত দেবেশ চন্দ্রের সাথে গোলমাল করে।

এ থেকেই নিহত দেবেশের স্ত্রী আনন্দ রাণী প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করেছিল। হয়তো এই শত্র“তা বশত: সে খুন করে থাকতে পারে। তবে পুলিশ এটা স্বীকার করে যে, খুনিরা পেশাদার কিলার এবং তারা জোর করে দেবেশ চন্দ্রকে মাটিতে শুইয়ে এক কোপে অত্যান্ত দক্ষতার সাথে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ বাজারে বুধবার সকাল ৬টায় এক জুতা ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিক (৬৮) মহিমাগঞ্জ এলাকার মৃত যোগেশ চন্দ্র প্রামাণিকের ছেলে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য