ট্রেন Trainগাইবান্ধার বোনারপাড়া থেকে দিনাজপুর রুটে চলাচলকারী ‘রামসাগর’ মেইল ট্রেন বন্ধের পাঁচ বছর পরও চালু হয়নি। এলাকাবাসীর পুনঃপুনঃ দাবির পরও কর্তৃপক্ষ ট্রেনটি চালুর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এতে এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তির অবসান হয়নি।  বগুড়ার সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলরুটের এই ট্রেনটি বোনারপাড়া থেকে গাইবান্ধা, কাউনিয়া ও রংপুর হয়ে দিনাজপুর পর্যন্ত চলাচল করত।

২০১১ সালের জুলাই থেকে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। স্বল্প ভাড়া আর সময়বান্ধব হওয়ায় গাইবান্ধার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ পাঁচবছর ধরে ট্রেনটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছে। এদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে গাইবান্ধা রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবলের অভাব মিটিয়ে বিভাগীয় রেল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব নিলে ট্রেনটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। গাইবান্ধা আদর্শ কলেজের শিক্ষক জিয়াউল হাফিজ  বলেন, গাইবান্ধাসহ উত্তারাঞ্চলের আট জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হওয়ায় গাইবান্ধার স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের প্রায়ই দিনাজপুর যেতে হয়।

রামসাগর সকালে গাইবান্ধা থেকে রওনা দিয়ে মাত্র সাড়ে ৪ ঘন্টায় দিনাজপুরে পৌঁছাত। আর গাইবান্ধা থেকে দিনাজপুরের ভাড়া ছিল মাত্র ত্রিশ টাকা। তিনি বলেন, বাসে একই সময় লাগলেও ২০০ টাকা ভাড়া গুণতে হয়। এছাড়া গাইবান্ধা থেকে দিনাজপুরে যাতায়াতের পর্যাপ্ত বাসও নেই। তাই ট্রেনটি চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে। গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রামসাগর ট্রেনটি রংপুর হয়ে দিনাজপুর যাতায়াত করত।

এ অঞ্চলের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যারা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রোগী নিয়ে যেতে পারে না, তাদের জন্য ট্রেনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, রংপুর বিভাগ হওয়ার অনেককে দাপ্তরিক কাজে সেখানে যেতে হচ্ছে। রামসাগর ট্রেনে গাইবান্ধা থেকে রংপুরের ভাড়া মাত্র ছিল ১৫ টাকা। আর এতে সময়য় লাগে মাত্র দুই ঘণ্টা। অথচ ট্রেনটি বন্ধ করে সাধারণ যাত্রীদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গাইবান্ধা স্টেশনের যাত্রীরা বলেন, নদীভাঙ্গন কবলিত গাইবান্ধার অসংখ্য মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন।

কম ভাড়া ও নির্দিষ্ট সময়ে চলাচলের কারণে ট্রেনটি তাদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ ছাড়াই ট্রেনটির চলাচল বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। গাইবান্ধা স্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম  বলেন, ‘রামসাগর’ ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলরুটে বোনারপাড়া থেকে গাইবান্ধা, কাউনিয়া ও রংপুর হয়ে দিনাজপুর পর্যন্ত চলাচল করত। ট্রেনটি গাইবান্ধা থেকে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় দিনাজপুর যেত। ভাড়াও ছিল মাত্র ৩০ টাকা প্রয়োজনের তুলনায় ট্রেনের চালক, গার্ড অপ্রতুল হওয়ায় ২০১১ সালের জুলাই মাসে ট্রেনটি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর প্রায় পাঁচবছর ধরে এটি বন্ধ রয়েছে। ট্রেনটি পুনরায় চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের কথা মাথায় রেখে লালমনিরহাট বিভাগকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। গাইবান্ধা জেলা সিপিবির সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেন, ট্রেনটি চালুর দাবিতে সিপিবি ও বাসদের যৌথ উদ্যোগে সমাবেশ, অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন অব্যাহত রাখা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যোগাযোগ মন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মিহির।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য