বিধ্বস্তের আগে ইজিপ্টএয়ার বিমানের কেবিনে ‘ধোঁয়া শনাক্ত’ হয়েছিলভূমধ্যসাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে মিশরীয় যাত্রীবাহী বিমানটির কেবিনে ধোঁয়া শনাক্ত হয়েছিল বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বিমান শিল্প-সম্পর্কিত ওয়েবসাইট দি এভিয়েশন হেরাল্ড এ তথ্য প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে তথ্যটি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এই তথ্যে বলা হয়, বিমানটির সিগন্যাল হারিয়ে যাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে বিমানের টয়লেটে ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় ধোঁয়া শনাক্ত হয়।

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে মিশরের রাজধানী কায়রো যাওয়ার পথে ইজিপ্ট এয়ারের ফ্লাইট এমএস৮০৪ ৬৬ জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। আরোহীদের সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ।

এভিয়েশন হেরাল্ড জানিয়েছে, তারা উড়োজাহাজটির কম্যুনিকেশন অ্যাড্রেসিং এন্ড রিপোর্টিং সিস্টেম (এসিএআরএস) এর মাধ্যমে আসা তথ্য তিনটি স্বায়ত্তশাসিত চ্যানেলের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে।

এসিএআরএস সিস্টেমটি দেখিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ২টা ২৬ মিনিটের সময় এয়ারবাস এ৩২০-র টয়লেটে ধোঁয়া শনাক্ত হয়।

এক মিনিটি পর ২টা ২৭ মিনিটে বিমানের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ধোঁয়া শনাক্তের সঙ্কেত দেয়।

এসিএআরএস-র শেষ বার্তাটি আসে ২টা ২৯ মিনিটে। এর চার মিনিট পর ২টা ৩৩ মিনিটে উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী এয়ারলাইনের জন্য এসিএআরএস নিয়মিতভাবে ফ্লাইটের তথ্য ডাউনলোড করে থাকে।

এভিয়েশন সিকিউরিটি ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিনের সম্পাদক ফিলিপ বাম বিবিসিকে জানিয়েছেন, কারিগরি সমস্যাও বাতিল করা যায় না।

তিনি বলেন, “উড়োজাহাজের টয়লেটে ধোঁয়া শনাক্তের পরপরই শনাক্তকারী যন্ত্র ধোঁয়ার সঙ্কেত দিল, আর তিন মিনিট পরই উড়োজাহাজের সিস্টেম বন্ধ হয়ে গেল। তাই এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্ভবত কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি, ককপিটেও কোনো ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেনি, বিমানে আগুন লাগাই সম্ভাব্য ঘটনা হতে পারে।

“এটা কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়ে থাকতে পারে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হতে পারে, অথবা উড়োজাহাজটিতে স্থাপন করা কোনো বোমার বিস্ফোরণে ঘটতে পারে, নির্দিষ্টভাবে জানিনা আমরা।”

এর আগে গ্রিস জানিয়েছিল, তাদের রাডারের তথ্য বলছে এয়ারবাস এ৩২০ দুটি তীক্ষ বাঁক নিয়ে ২৫ হাজার ফুট ওপর থেকে পড়ে যায়।

শুক্রবার উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ ও নিহতদের শরীরের অংশ তল্লাশিকারীরা খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন গ্রিস ও মিশরীয় কর্মকর্তারা।

মিশরীয় তল্লাশি ক্রু-রা উড়োজাহাজটির সিট ও মালপত্র খুঁজে পেয়েছেন। মিশরীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আলেকজান্দ্রিয়ার ২৯০ কিলোমিটার উত্তরে এসব ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে।

তল্লাশি ও উদ্ধাকারী দল এখন উড়োজাহাজটির ফ্লাইট রেকর্ডার খুঁজে পাওয়ার বিষয়টিতে জোর দিচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য