বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান সাইদুরের বিরুদ্ধে সরকারী গাড়ী ব্যবহারের অভিযোগআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান মুন্সির বিরুদ্ধে পরিষদে এসে দাপ্তরিক কাজ ও পরিষদের সরকারী গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ ও মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে অমান্য করে তিনি গত মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারে বসে দাপ্তরিক কাজ করে ও সরকারী গাড়ী নিয়ে ঘুরে বেড়ান।

সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকতার বানু লাকী জানান, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এক আদেশে সাইদুর রহমান মুন্সিকে গত নভেম্বর মাসের ২২ তারিখে বরখাস্ত করেন। এ আদেশের পর সাইদুর রহমান ডিসেম্বর মাসে মহামান্য হাইকোর্টে বরখাস্তের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন করেন। (যার পিটিশন নম্বর ১২১৩৩)। পরে মহামান্য হাইকোর্ট শুনানী শেষে রিট পিটিশনটি খারিজ করেন। পরে তিনি আবারও হাইকোর্টের অন্য আদালতে রিট পিটিশন করেন। (যার নম্বর ১২৫৭৬)। তখন হাইকোর্ট শুনানী শেষে তাকে পুনবহালের আদেশ দেন।

এ আদেশের প্রেক্ষিতে তিনি (আকতার বানু লাকী) তৃতীয় পক্ষ হয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের (সিএমপি) মামলা করেন। এরপর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রানালয়ের একজন সচিব প্যানেল আনজীবির মাধ্যমে ওই আদেশ বাতিলের চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে (সিআর) মামলা করেন। (যার নম্বর ৯৩৪)। পরে সুপ্রিম কোর্ট বরখাস্তের আদেশ বহাল রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৬ মাস চলতি বছরের (২৬মে) পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং মামলার শুনানী নির্ধারণ করে ২৬ মে।

তিনি আরও জানান, সাইদুর রহমান বরখাস্ত ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্বেও মঙ্গলবার তিনি পরিষদে আসেন। পরিষদে এসে তিনি অফিস সহকারীদের ডেকে নিয়ে দাপ্তরিক কাজের খোঁজ খবর নেন। এছাড়া একই সঙ্গে অদ্য থেকে তিনিই উপজেলা চেয়ারম্যান দাবি করে তাদের কাজ করতে নির্দেশ দেন। এরপর তিনি দুপুরে পরিষদের সরকারী গাড়ি নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ে বেড়ান। ফলে তিনি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ ও মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে অমান্য করেছেন।

এবিষয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত (ইউএনও) আবু রায়হান দোলন জানান, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৩ তারিখে দেওয়া মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি উপজেলা পরিষদে আসেন এবং সরকারী গাড়ী ব্যবহার করেন। এছাড়া তার পুনবহালের নতুন কোন আদেশ তিনি পাননি।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুস সামাদ জানান, সাইদুর রহমান মুন্সির পুর্ণ বহালের জন্য সরকারী কোন নির্দেশ বা পত্র তিনি পাননি। তবে কেন কি কারণে তিনি উপজেলা পরিষদে এসে সরকারী গাড়ি ব্যবহার করেছেন তা জানা নেই।

সাদুল্যাপুর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খাঁন বিপ্লব দ্য রিপোর্টকে জানান, সাইদুর রহমান আমাকে হত্যা চেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রানালয় তাকে বরখাস্ত করেছেন। কিন্তু তারপরেও কোন আদেশে তিনি উপজেলা পরিষদের এসেছিলেন এবং গাড়ি ব্যবহার করেছেন তা স্থানীয় প্রশাসন জানতে পারেন। তবে কোন আদেশ বা পত্র ছাড়া তিনি পরিষদে আসলে সেটা সরকারী ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন।

এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মুন্সির সঙ্গে তার মোবাই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত: পলাশবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া নাশকতার মামলায় ২০১৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সাইদুর রহমান মুন্সি গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাদুল্যাপুর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া খাঁন বিপ্লবকে হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে আরও দুটি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশীট) আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। বর্তমানে মামলা দুটি জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. আকতার বানু লাকীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য