নিঃস্ব অসহায় এক সামছুল এর কাহিনীউপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের সামছুল(৫৫)। স্ত্রী কন্যা হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। জীবিকার প্রয়োজনে ভিক্ষা করে। জঠরের জ¦ালা নিবারনে প্রতিদিন অন্যের দারস্থ’ হতে হয় তাকে।

রাত হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় মেঝেতে ঘুমিয়ে পড়েন। মশার সাথে লড়াই করে রাত কেটে যায়। সকাল হলে আবারও বেরিয়ে পড়েন। গত ৩ বছর ধরে তিনি এভাবেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ব্দ্ধৃ সামছুর যখন শিশু,সে সময় তার দিনমজুর সহায় সম্বলহীন বাবা মা দু’জনই পরলোকে পাড়ি জমায়।

মাত্র ৫ বছর বয়সের শিশু সামছুলকে ওই গ্রামের এক ধর্নাঢ্য আজিজার রহমানের বাড়িতে ঠাঁই দেন। তার বয়স যখন ৮ বছর তখন ওই বাড়িতেই গরু চরানোর কাজ জোটে। কিশোর সামছুল এক সময় যৌবনে পা দেয়। ওই বাড়ির কাজের ঝি জনিরার সাথে তার বিয়ের পর পৃথক করে দেয়া হয়। একটি পরিত্যক্ত ঘরে এদের ঠাই হয়। শুরু হয় নতুন সংসার। দু’ বেলা আহার জোটে সেখানে প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে এদের কোল আলো করে ফুটফুটে কন্যা খাদিজার জন্ম হয়।

কিশোরী খাদিজাকে রেখে আজ থেকে ৮ বছর আগে এক বর্ষন সিক্ত সকালে মা জরিনা ইহলোক ত্যাগ করে। মা মারা যাবার তিন বছর পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় খাদিজাকে প্রতিবেশী যুবক গেল্লার শেখ এর সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর মাত্র দু বছরের মাথায় বিগত ২০১৩ ইং সালে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার সময় খাদিজাও মারা যায়। স্ত্রী কন্যা বিয়োগের পর সামছুল মিয়া তাই জঠরের জ¦ালায় এলাকা ছেড়ে উপজেলা সদরে এসে আশ্রয় নেয়।

বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে,বাঁকা হয়ে গেছে কোমর। ক্ষীন হয়ে গেছে দৃষ্টি শক্তি। তার পরেও শুধু পেটের তাগিদে লাঠিতে ভর করে প্রতিদিন ২০/৩০ কি.মি পথ মাড়াতে হয় তাকে। স্মৃতির পাতা ওল্টাতেই বৃদ্ধার দু’চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। স্ত্রী সন্তানের কথা মনে হলে ব্যথায় বুকের ভেতরটা চিনচিন করে ওঠে। এক বুক কষ্ট আর যন্ত্রনা কান্না হয়ে গড়িয়ে পড়ে দু চোখ দিয়ে।

জনগনের সেবা করার সুযোগ দানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত কোন জন প্রতিনিধির নজরেই পড়েনি সে। আর সে জন্যই সামছুল এর ভাগ্যে একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড জোটেনি আজও পর্যন্ত ! দেশের আনাচে কানাচে কত শত সামছুল এভাবে অবহেলার শিকার হয়ে রোদে পড়ে বুষ্টিতে ভিজে অনাহারে আর অর্ধাহারে জীবন কাটাচ্ছে, কে তার খবর রাখে ?

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য