ক্ষুধার জ্বালায় খাবার চুরি অপরাধ নয়যখন আপনি সত্যিই ক্ষুধার্ত তখন জীবনধারণের জন্য সামান্য পরিমাণ খাবার চুরি করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিৎ হবে না বলে রায় দিয়েছে ইতালির সর্বোচ্চ আদালত।

দেশটির একটি সুপার মার্কেট থেকে রোমান অস্ত্রিয়াকভ নামে ইউক্রেনিয়ান এক ব্যক্তি সাড়ে চার ডলার মূল্যের পনির ও সসেজ চুরির অভিযোগে দায়ের মামলার আপিল শুনানি শেষে এই রায় আসে।

ইতালির সুপ্রিম কোর্ট অব ক্যাসেশানের বিচারকেরা সোমবার তাদের রায়ে বলেন, ইউক্রেইন থেকে আসা বাস্তুহারা অস্ত্রিয়াকভ ‘বিপর্যয়ের মুখে দ্রুত ও অপরিহার্য পুষ্টির জন্য’ খাবার চুরিতে ‘বাধ্য’ হয়েছিলেন। সে কারণে এটি অপরাধ হতে পারে না।

এই সর্বোচ্চ আদালত কোন বিশেষ মামলার তথ্য প্রমাণের চেয়েও আইনের ব্যবহারিক প্রয়োগকে প্রাধান্য দেয়। সেখানেই অস্ত্রিয়াকভের ‘খাবার চুরির’ অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়।

বিবিসি বলছে, ২০১১ সালে জেনোয়া সুপারমার্কেট থেকে খাবার চুরির অপরাধে অস্ত্রিয়াকভকে আটক করা হয়।

অস্ত্রিয়াকভ দোকান থেকে ব্রেডস্টিক কিনে দাম পরিশোধ করলেও পকেটে থাকা পনির ও সসেজের দাম না চুকিয়েই দোকান ত্যাগ করার চেষ্টা করেছিলেন। অন্য এক ক্রেতার কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটক করেন।

গেল বছর অস্ত্রিয়াকভকে খাবার চুরির দায়ে অভিযুক্ত করে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও একশ ইউরো জরিমানা করা হয়।

আটকের সময় অস্ত্রিয়াকভ দোকানের সীমানার বাইরে না যাওয়ায়, তাকে চুরির দায়ে অভিযুক্ত করা যাবে কী না, সেই বিবেচনায় মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট অব ক্যাসেশানে পাঠানো হয়।

বিচারকেরা এরপর মামলার সবদিক বিবেচনা করে অস্ত্রিয়াকভের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেন এবং ‘ক্ষুধার্তের খাবার চুরি’ অপরাধ হতে পারে না বলে রায় দেন।

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম।

লা স্তাম্পা পত্রিকার উপ-সম্পাদকীয়তে রায়ের পক্ষ নিয়ে বলা হয়েছে, “বিচারকেরা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে সম্পত্তির উপরে স্থান দিয়েছেন। অর্থনৈতিক এই দুর্দশাকালেও বিচারের রায় মনে করিয়ে দেয়, সভ্য দেশে যত খারাপ সময়ই আসুক না কেন, মানুষ না খেয়ে থাকবে তা হতে পারে না।”

করিয়ের দেলা সেরা’র মতামত বিভাগে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইতালিতে প্রতিদিন ৬১৫ জন লোক দারিদ্রসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। বিচারে এই বিষয়টিকে ধার্তব্যের মধ্যে নেয়া হবে না, তা চিন্তাই করা যায় না।

নিবন্ধে পাঁচ ডলারের নিচে মূল্যের একটি পণ্য চুরির মামলা তিন দফা আদালত চত্বরে ঘোরাঘুরির পর সম্পন্ন হওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করা হয়।

ইতালিয়া গ্লোবাল ডটআইটি ‘ঐতিহাসিক’ এ রায়কে ‘সঠিক ও প্রাসঙ্গিক’ বলে মন্তব্য করেছে। তারা বলছে, “শতাব্দীকাল ধরে পশ্চিমারা এই বার্তাই দিতে চায়- একেই বলে মানবতা।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য