সাদুল্লাপুরের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে হুমকিসহ ভোট গ্রহণে অপচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ চতুর্থ ধাপের ৭ মে ইউপি নির্বাচনে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩নং দামোদরপুর ইউনিয়নে আ’লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন ও তার সংগঠিত কর্মীবাহিনী কর্তৃক লাঙ্গল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের প্রাণনাশের হুমকি ও ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোট গ্রহণের অপচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাদুল্যাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কান্তনগর বাজারস্থ শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে দামোদরপুর ইউনিয়নে জাতীয়পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুন্নবী আকন্দ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি দামোদরপুর ইউনিয়নের তিনবার নির্বাচিত একজন সাবেক সফল চেয়ারম্যান। ৭ মে’র নির্বাচনে তিনি জাপাপ্রার্থী হয়ে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। কিন্তু নির্বাচন প্রচার-প্রচারণা ও আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আ’লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন ও তার সংগঠিত কর্মীবাহিনী আমাকে ও আমার কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

এ কারণে লাঙ্গল প্রতীকের কর্মী-সমর্থক অনেকে শংকিত ও আতংকিত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া স্বাধীন ও তার কর্মীরা আমার কর্মীদের হাটে-ঘাটে, মাঠে-ময়দানে ও রাস্তা-ঘাটসহ অনেকের বাড়ি গিয়েও হুমকি দিচ্ছেন। তাছাড়া নৌকায় ভোট না দিলে তাদের হাত-পা ও শরীরের মাংস, জিহ্বা কেটে ফেলা, বাড়ি ভাংচুর এবং মিথ্যা মামলার জড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের। পাশাপাশি আমাকে ও আমার নির্ভরশীল কর্মীদেরকে সরাসরি আবার কখনো মোবাইলেও হুমকি দিচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, শুধু হুমকি-ধামকি দিয়েই ক্ষান্ত নন স্বাধীন। তিনি প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন, আমি একটা  ভোট পেলেও চেয়ারম্যান হব, আমাকে চেয়ারম্যান হতেই হবে। আমাকে চেয়ারম্যান করার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেক ব্যক্তি প্রশাসনিক সহযোগিতা করবে বলেও অবাস্তব কথা বলে বেড়াচ্ছেন। এসকল অপ্রচারের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ এবং আমার কর্মীরা অত্যন্ত ভীত ও আতকিংত অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া অনেকে প্রাণের ভয়ে নিজ বাড়ি ও এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুন্নবী আকন্দ আরো বলেন, ২৫ এপ্রিল রাতে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস আ’লীগের দলীয় লোকজন নিজেরাই ভাংচুর করেন। অথচ ভাংচুরের ঘটনায় লাঙ্গল প্রতীকের লোকজনের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন তারা। যা মিথ্যা ও বানোয়াট। ঘটনার রাতে নৌকা প্রতীকের কর্মীরাই হাতে লাঠি নিয়ে মহড়া দিয়ে লাঙ্গল প্রতীক ও ছোবহান নামে এককর্মীর বাড়ি ভাংচুর করেন। এসব ভাংচুর ও লাঠি হাতে নিয়ে মহড়ার ঘটনা স্থানীয় জনসাধারণ অবগত রয়েছেন।

এসব অপরাধ কর্মকান্ড চালানোর পরেও স্বাধীন তার কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন  ভোটকেন্দ্র দখল করে ভো গ্রহণের অপচেষ্ঠা চালিয়ে আসছেন। তাই দামোদরপুর ইউপিতে যাতে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এজন্য প্রশাসনের উদার সহযোগিতার দাবী জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাদুল্যাপুর উপজেলা জাতীয়পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ আশরাফ-উল ইসলাম হিরু, জামালপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ সাখাওয়াত হোসেন, দামোদরপুর ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হকসহ লাঙ্গল প্রতীকের কর্মীসমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে আ’লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য