চিরিরবন্দর উপজেলায় ডেইরী খামারীর সাফল্য কাহিনীওয়েব ডেস্কঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ডেইরী খামার করে শাহীন সরকার বর্তমানে সারাদেশে রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন। চিরিরবন্দর উপজেলার ৬নং অমরপুর ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের মোঃ ময়নুদ্দিন সরকারের পুত্র মোঃ শাহীন সরকার (৪০) একজন সফল খামারী। তিনি ২০০০ সালে মাত্র ৫ টি গাভী দিয়ে খামার শুরু করেন। তখন তার খামারের দৈনিক গড় দুধ উৎপাদান ছিল ২৫ লিটার।

বর্তমানে তার খামারে ৭০ টি গাভী, বকনা ১৫ টি, ষাড় ৫ টি এবং ২০ টি বাছুরসহ ১১০টি উন্নত জাতের গরু আছে। তিনি বর্তমানে নিজস্ব ৩ একর জমিতে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন। তার খামারের বর্তমান দুধ উৎপাদন গড়ে দৈনিক ৫০০ লিটার। দুধ বিক্রি থেকে তার বর্তমান মাসিক আয় প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা এছাড়া গোবর এবং স্লারী থেকে মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা। প্রতি বছর ষাড় বাছুর বিক্রি করে তিনি আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন।

তিনি খামারের আয় থেকে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করেছেন। বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে তার পারিবারিক এবং খামারের সমস্ত রান্নার কাজ হয়। গরুর খাবার, জনবল, ঔষধপত্র এবং অন্যান্য খরচ বাবদ খামারের মাসিক ব্যয় আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা। খামার পরিচালনা করে তিনি প্রতি মাসে আনুমানিক ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা লাভ করে থাকেন। তিনি খামারে ৭ জন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের পরিবারের দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ তারেক হোসেন জানান, তার খামারে সরকারী প্রকল্প সহায়তা হিসেবে উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে একটি ক্রীম সেপারেটর মেশিন এবং একটি কাফপেন সরবরাহ করা হয়েছে। সম্প্রীতি তিনি ক্রীম সেপারেটর মেশিন দিয়ে দুধ থেকে ঘি তৈরী করে অতিরিক্ত আয় করছেন। এছাড়া তিনি একটি ছাগলের খামার স্থাপন করেছেন। খামারী শাহীন সরকার জানান, তার খামারে বর্তমানে গরুর পাশাপাশি ৪০ টি ছাগল রয়েছে।

প্রতি বছর তিনি ২৫-৩০ টি ছাগল বিক্রি করে থাকেন। যা থেকে বার্ষিক আয় হয় আনুমানিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। সফলতার সাথে খামার পরিচালনা করে এক সময়ের ক্ষুদ্র খামারী শাহীন সরকার আজ চিরিরবন্দরের সবচেয়ে বড় খামারীতে পরিণত হয়েছেন। তিনি আগ্রহী অন্যান্য খামারীদের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য