ইউরিয়া জব্দসোহেল সানী, পার্বতীপুর থেকেঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসন অর্ধকোটি টাকার (৩৮০ মে.টন) ইউরিয়া সার জব্দ করার ঘটনায় বাফার ইনচার্জ শাহজাহান আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। শনিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে বাফার গোডাউন ইনচার্জ শাহজাহান আলীকে স্টান্ড রিলিজ করে আশুগঞ্জ সার কারখানায় নেয়া হয়েছে। পার্বতীপুর বাফার গোডাউনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী ম্যানেজার মিজান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

বাঘাবাড়ী ঘাট থেকে পরিহন ঠিকাদার চট্টগ্রামের নবাব অ্যান্ড কোম্পানি ৭ হাজার ৬শ’ বস্তা (৩৮০ মেট্রিক টন) ইউরিয়া সার ট্রাকে করে পার্বতীপুর এনে শহরের পুরাতন বাজার সাগর সিনেমা হলের পাশে উত্তরা রাইস মিলের গোডাউনে মজুদ করে রাখে। গোডাউনটি পার্বতীপুর শহরের নতুন বাজার পৌরসভার রোডস্থ বাবু এন্টারপ্রাইজের স্বতাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম বাবুর।

বুধবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম অভিযান চালিয়ে এ সার জব্দ করে গোডাউনটি সিলগালা করে দেন। ঘটনার দিন থানায় একটি জিডি করা হয়। জব্দ করা সারের খুচরা বাজার দর প্রায় ৬০ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, ইউরিয়াগুলো পাচারের উদ্দেশে সেখানে মজুদ করা হয়েছিল ও (বাফা) ইনচার্জ শাহজাহান আলীও এর সঙ্গে জড়িত। এজন্য তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

উলে¬খ্য, ২০১৩ সালে ৭সেপ্টেম্বর ইউরিয়া সার ভারতে পাচারকালে পুলিশ (ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৪৮৮০) নম্বরে থাকা একটি ট্রাকে ৩৬০ বস্তা ইউরিয়া সারের কোন বৈধ কাগজপত্রাদি দেখাতে না পারায় সারসহ ট্রাক ও ড্রাইভারকে আটক করা হয়। ড্রাইভার আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে ভুট্টুকে (৪২) সে সময় পুলিশকে জানায়, সে পার্বতীপুর শহরে অবস্থিত বাফার গুদাম থেকে উলে¬খিত ইউরিয়া সার নিয়ে ট্রাকে করে ভারতে যাওয়ার পথে যাচ্ছিল।
পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া তদন্ত কেন্দ্রের উপ-সহকারী পরির্দশক মশিউর রহমান বাদি হয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সার অপরাধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি (এ) ধারায় ২জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন।

এ ছাড়াও ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পার্বতীপুরে বাফার গুদাম ইনচার্জ শাহজাহান আলী ডিলারের সাথে যোগসাজস করে ৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিক্রি করে পুরো টাকা আত্মাসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তৎকালীন উপজেলা সার, বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনা তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত গুদাম ইনচার্জের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করলেও বিসিআইসি কোন পদপে গ্রহন করেনি। গতকাল শনিবার (২৩ এপ্রিল) অনলাইন নিউজ পোর্টার দিনাজপুরনিউজ.কমে এ সংক্ষান্ত একটি খবর প্রকাশ পায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য