সংঘর্ষ Songorshoলালমনিরহাটে বাড়ি ভিটার সামান্য জমি নিয়ে সংঘর্ষে ইটভাটার কর্মচারী কেরামত আলীর স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৭জনকে কুপিয়ে আহত করেছে একই গ্রামের আমিনুল ইসলাম ও তার চার পুত্র।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের খুটামারা গ্রামে। আহতরা হলো, কেরামত আলীর স্ত্রী মোছাঃ সাহেরন বেগম (৫৫), তিনকন্যা রোকেয়া বেগম (২৬), ও   কুলসুম বেগম (২৩), রহিমা বেগম (১৬) পুত্র শাহা আলম (২৮), জামাতা জিরøুর রহমান (৩৫) ও নাতী জান্নাতুন (৯)। আহতরা বর্তমানে আদিতমারী থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

মামলার বিবরনে জানাযায়, জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের খুটামারা গ্রামের ইটভাটার কর্মচারী কেরামত আলীর সাথে একই গ্রামের আমিনুল ইসলামের বাড়ি ভিটার সামান্য একটু জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার বিকেলে কেরামতের নাতী জান্নাতুন আমিনুলের বাড়ির সামনে খেলতে গেলে তার স্ত্রী ওইটুকু বাচ্চাকে বেধরক মারপিট করে। জান্নাতুন কাঁদতে কাঁদতে এসে তার মা রোকেয়া বেগমকে বলে। রাতে কেরামতের স্ত্রী বাড়িতে এলে জানতে পাওে ওমেনা বেগম তার নাতীকে মেরেছে।

নাতীকে কেন মারা হয়েছে কেরামতের স্ত্রী আমিনুলের বাড়িতে জানতে গেলে পুর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠি-সোঠা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমিনুলের ৪পুত্র নুর আলম, নুর হোসেন, নুর ইসলাম ও রহিমা বাদশা তার উপর অতর্কিত হামলা করে। মায়ের চিৎকারে তাকে বাচাতে কন্যা রোকেয়া বেগম, কুলসুম বেগম, কলেজ ছাত্রী রহিমা বেগম ও পুত্র শাহা আলম এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বেধরক মারপিট করে। এসময় জামাতা বাড়িতে আসলে তার উপরও হামলা করে মারাত্বক আহত করে। এক পর্যায়ে কন্যা রোকেয়া বেগমের গলায় থাকা ১৬হাজার টাকা মল্যে স্বর্নের চেইন ও জামাতা জিল্লুর রহমানের প্যান্টের পকেটে ইটভাটা শ্রমিকদের মুজুরীর কুড়ি হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

তাদের আর্ত্বচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আসামীরা অস্ত্র-সস্ত্র ফেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে আদিতমারী থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এ ব্যাপারে কেরামত আলী বাদী হয়ে ৯জনকে আসামী করে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলো, (১) মোঃ আমিনুল ইসলাম (৫৫) পিতা খয়বার আলী, তার পুত্র নুর আলম (৩২), নুর হোসেন (২৫), নুর ইসলাম (২২) ও রহিম বাদশা (১৮), খয়বারের স্ত্রী মোঃ ইসরা বেগম(৬০), মোছাঃ ওমেনা বেগম (৪৫) স্বমী আমিনুর, কাবেলেকা বেগম (১৯) স্বামী নুর হোসেন, লাভলী বেগম (১৮) পিতা আমিনুল। মামলা নং ০৮, তারিখ ১১.০৪.১৬ই্ং। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমিনুলের ওই চার সন্ত্রাসী পুত্রের ভয়ে কেরামতের কলেজ পড়–য়া কন্যা রহিমা বেগম ভয়ে কলেজে যেতে পারছে না। শনিবার পর্যন্ত থানা পুলিশ সেখানে তদন্ত করতে গেলে এর পাওয়া যায়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামী গ্রেফতার করতে না যাওয়ায় আসামীরা বীরদর্পে তাদেরকে হত্যার হুমকী অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে বাদীর পরিবার চরম নিরপত্তা হীনতায় ভুগছে।

এ ব্যাপরে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আকতার হোসেন জানান, ঘটনার বিষয় অবগত হয়েছি. মামলাটি রেকর্ডও করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য