IMG_4745“আমার কাজ করতে কষ্ট হয়। বুকে ব্যথা করে। বাড়ির লোকজন আমাকে মারধর করে। আমার কাজ করতে ভালো লাগে না। ইস্কুলে যেতে মন চায়।” কান্না জড়িত কন্ঠে জানায় সাবানা (১২)। সে গত দুবছর ধরে অন্যের বাসায় ঝিঁ এর কাজ করে। সাবানার মতো আর্তি উপস্থিত আরো পাঁচ জন শিশুশ্রমিকের। এদের কেউকাজ করে হোটেলে, কেউবা ঝাঁলাইয়ের দোকানে আবার কেউবা বাসা বাড়িতে।
শিশুশ্রম মুক্ত রংপুর গঠনের লক্ষ্যে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আজ রংপুর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে “ শিশুদের সামাজিক সুরক্ষায় আমাদের করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ,বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ গ্লোরিয়াস গ্রেগরী দাস।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, “শিশুশ্রম রংপুরের জন্য একটি বড় সমস্যা। শুধু রংপুরেই নয় এটা গোটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। আমরা রংপুর বিভাগের উন্নয়ন অংশিদার হিসেবে শিশুশ্রমিক মুক্ত রংপুর গড়তে চাই, যেখানে সহযোগিতা দরকার সবারই।”
রংপুরের শিশুশ্রমের সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করেন নতুন জীবনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ জামাল উদ্দীন তিনি বলেন “রংপুরের আমরা প্রায় নতুন জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে ৭০০ শিশু শ্রমিককে উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। তাছাড়া এই শিশুদের পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বি করতে প্রকল্পথেকে বিশেষ সহায়তা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সহায়তায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ শিশু শিশুশ্রমছেড়ে মুলধারায় ফিরে এসছে।”
মতবিনিময় সভার প্রধান আলোচক ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এডভোকেসী পরিচালক চন্দন জেড গোমেজ বলেন “শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের অনেক পদক্ষেপ আছে। শুধুমাত্র প্রয়োজন সেই পদক্ষেপ গুলোর বাস্তবায়ন। আর এই প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে।”
প্রধান অতিথী জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ তার বক্তব্যে বলেন “ সরকার শিশুশ্রম নিরসনে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি সহনীয় মাত্রার আনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহন করেছে। তাছাড়া সরকার শিশুশ্রম নিরসেনে জাতিসংঘের কাছে স্বাক্ষর কারী একটি দেশ। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই যে রংপুরে কোন শিশুশ্রমিক নেই। বিশেষ করে হারাগাছ এলাকায় অগনিত শিশু বিড়ি ফ্যাক্টরীতে কাজ করছে। প্রসাশন তাদেরকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আর একাজে সকল সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় রংপুর শিশুশ্রম মুক্ত হবেই।”
মুক্ত আলোচনায় বিশেষ অতিথী অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন “ আমরা শিশু সুরক্ষা বিষয়ের যেসব কমিটি আছে তা শুধু জেলা পর্যায়েই নয় উপজেলা পর্যায়েও প্রসারিত করবই। আমরা প্রতিটি উপজেলার কমিটিগুলো সচল করব। আমরা আমাদের সম্মিলিত পচেষ্ঠায় সরকারী ও বেসরকারী সংগঠনমিলে এই সমস্যার সমাধান করবই।”
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতির বিভাগীয় প্রধান কহিনুর বেগম বলেন “আমাদের শিশুরা কিন্তু সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তার পরিবারে। সুতরাং পারিবারিক সচেতনতাই পারে শিশুদের ঝঁকিপূর্ণ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনতে।”
লাবনী ইয়াসমিন, বাংলাদেশ অবজারভার প্রতিনিধি বলেন “ শিশুদের নিয়ে অনেক আইন অছে। সরকারী অনেক সিদ্ধান্ত আছে, আসলে তার বাস্তাবায়নটা কতখানি। আমরা বলছি ২০১৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম সহনীয় মাত্রায় আনব। কিন্তু আজ ২০১৪ সালে আমরা বলতে পারছি না, কতজন শিশুকে আমরা শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করেছি। তবে আমাদের সবার প্রচেষ্ঠা  থাকবে শিশুশ্রম মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার।”
শামিমা বেগম আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ঢাকা আহছানিয়া মিশন তিনি বলেন“ রংপুরে প্রায় ৪৮০০০ হাজার শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়েছিল। আমরা চেষ্টাকরছি তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে। পরিবার এবং রাষ্টকেই এই দায়দায়িত্ব নিতে হবে শিশুশ্রম মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে।”
প্রেসক্লাবের সভাপতি  একেএম ফজলুল হক বলেন “ মিডিয়া কর্মী হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়েই বলতে চাই শিশু শ্রমবন্ধে সবাইকে একত্রে কাজকরতে হবে। একাজ কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে করা অসম্ভব।”
বেগম নাজমুন নাহার, উপ-পরিচালক সমাজসেবা তিনি বলেন “ হারাগাছ রংপুর এর শিশুশ্রম নিরসনে সরকার ইতোমধ্যে ৪০০ জন শিশুকে নিয়ে কাজশুরু করেছে। আগামীতে সরকার আরো ব্যাপকভাবে কাজকরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি সবাইকে একাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করেন।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য