লালমনিরহাটে খুরা রোগে অর্ধশত গরুর মৃত্যুলালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় খুরা রোগ মহামারি আকার ধারন করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অর্ধশত গরু ও  ছাগলের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই রোগে গরু ও ছাগলের সঠিক চিকিৎসা করতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়ছে সাধারন কৃষকরা। প্রতিদিনেই এ রোগে আক্রন্ত হয়ে গরুর মৃত্যু হচ্ছে বলে গ্রামের কৃষকরা জানান।

খুরা রোগে আক্রান্ত এলাকা গুলো হচ্ছে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা, পুর্ব সারডুবী, দোলাপাড়া, পশ্চিম সারডুবী গ্রাম। ওইসব এলাকায় গরুর খুরা রোগ মহামারি আকার ধারন করেছে। এই রোগে আক্রান্ত গরুর মুখদিয়ে লালা ঝরে, খাওয়া বন্ধ করে ঝিমিয়ে পড়ে। এসব এলাকায় দশ দিনেও স্থানীয় প্রাণী সম্পদ বিভাগের কেই খোঁজ নেয়নি।

সরেজমিনে সোমবার দুপুরে গ্রাম গুলোঘুরে দেখা গেছে প্রায় শতাধিক গরু, ছাগল, ভেড়া খুরা রোগে আক্রন্ত হয়ে পড়েছে। পুর্ব সারডুবী গ্রামের লাবলু মিয়ার একটি গাভীগরু সোমবার রাতে মৃত্যু হয়। এর আগে উপজেলার পুর্ব সারডুবী গ্রামের আনারুল ইসলামের একটি, দুলুর একটি, আজিবরের একটি, আলতাবের একটি, ছোবাহানের একটি, বদর মিয়ার একটি, বাবুলের একটি, শেয়ালী বেওয়ার একটি গরুসহ গত একসপ্তাহে এই রোগে আক্রন্ত হয়ে গরুর মৃত্যু হয়।

বর্তমানে ওই এলাকার ক্ষুদ্র খামাড়ি ও গরুর মালিকদের মাঝে খুরা রোগের আতংক বিরাজ করছে। অনেক কৃষকেই গরু হারানোর ভয়ে কম দামে গরু বাজারে বিক্রি করছেন। পুর্ব সারডুবী গ্রামের আলতাব মিয়া বলেন, এতোদিন হলো অথচ পশু চিকিৎসকরা একদিনেও এই গ্রামে এসে খোঁজ নেয়নি। এ রোগে আমার একটি গরুর বাছুর মারা গেছে, আবার এ রোগ ছড়িয়ে পরে নতুন করে অন্য গরু গুলোকেও আক্রন্ত করছেন।

কৃষক লাবলু হোসেন বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে বড়খাতাহাট থেকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গাভী কিনে এনেছি, খুরা রোগে আক্রন্ত হয়ে গতরাতে গাভীরটি মৃত্যু হয়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মকবুল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য একজনকে পাঠানো হয়েছে। মুলত বেশীভাগ গরুর বাছুর কে আক্রন্ত করছে এ রোগ। এটি একটি ভাইসরাস জনীত রোগ । প্রতিশোধক টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত গৃহপালিত পশুগুলো এর থেকে প্রতিকার পাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য