ইলিশআর কয়েক দিন বাদে বৈশাখ। বঙ্গের উৎসব পাগল বাঙ্গালীর আরো একটি উৎসব দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ইতিমধ্যে সৌখিন বাঙ্গালীদের মাঝে শুরু হয়েছে বর্ষ বরণের নানা প্রস্তুতি। পহেলা বৈশাখ সকালে পান্তা ইলিশ না হলে যেন পুরোটাই বৃথা। শহরের নুতন বছরের শুধুই প্রথম দিনের বাঙ্গালীরা পহেলা বৈশাখকে বরনের তোড়জোরে এখন থেকে ইলিশ কিনে ফ্রীজজাত করতে শুরু করেছে।

এ তোড়জোরেই বোঝা যায় পহেলা বৈশাখকে নানাভাবে বরনের প্রধান অনুসঙ্গ যেন ইলিশ। শহরের একদিনের বাঙ্গালীর বৈশাখ বরনের তোড়জোরের কোন ছোয়া নেই গ্রাম বাংলার ১২ মাসের ৩৬৫ দিনের সার্বজনীন বাঙ্গালীদের মাঝে। তাদের মাঝে যেই চৈত্র আর সেই বৈশাখ। যারা শুধুই পান্তা দিয়েই বছর করছে পার। আর ইলিশ এদের দুয়ারে ৫ বছরেও একদিন কড়া নাড়েনা।

এমন বাঙ্গালীদের পান্তা ইলিশের স্বপ্ন প্রতি বছরের মত এবারও অধরাই রয়ে গেল। কারণ কৃষি উপকরনের অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধি আর কৃষি পন্যর ক্রমাগত দরপতনের কারনে যাদের জীবন ধারন ক্রমেই কঠিন হতে কঠিনতর হয়ে উঠেছে। কৃষি নির্ভর নীলফামারী জেলার সেই ৯৫ শতাংশ কৃষকের ঘরে নেই পান্তা ইলিশ দিয়ে বর্ষ বরণের কোন উপায়। কারণ জেলার প্রধান ফসল ধান।

আর জেলায় বিভিন্ন হাট বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকায়। আর জেলার বাজারে ৮০০ গ্রাম হতে ১ কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ হতে ১৪০০ টাকায়। যার ফলে প্রতি ৪ মণ ধানের বদলে পাওয়া যাচ্ছে একটি ইলিশ। ৪ মণ ধানে একটি ইলিশ কেনার সাধ্য নেই জেলার কৃষকদের। জেলায় পন্যর বাজার নিয়ন্ত্রনের নেই কোন কতৃপক্ষ।

যার ফলে পন্যর বাজার উঠা নামা করে ব্যাবসায়ীদের খেয়াল খুশিমত। বাজার ব্যাবস্থার উত্তরোত্তর এমন অবনতিতে পান্তা ইলিশের পাশাপাশি বর্ষ বরনের কোন অনুসঙ্গ নেই জেলাবাসীর মাঝে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য