আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পানামা পেপার্সে অর্থ পাচার এবং কর ফাঁকির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন। আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের কথা জানিয়ে তাঁর দল প্রগ্রেসিভ পার্টির উপনেতা ও কৃষিমন্ত্রী সিগুইডুর ইঙ্গি জোনাসন বলেন, পার্লামেন্টারি পার্টির সভায় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। এখন তিনি (কৃষিমন্ত্রী) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন বলে জানান।

ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সিগমন্ডুর গুনলাগসন ও তাঁর স্ত্রী ২০০৭ সালে উইনট্রাস নামের একটি কোম্পানি কেনেন। ২০০৯ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার সময় গুনলাগসন প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাওয়া লভ্যাংশের কথা গোপন করেছিলেন। কেলেঙ্কারির খবর বের হওয়ার পরপরই সোমবার গুনলাগসনের পদত্যাগের দাবিতে গণস্বাক্ষরে সই করে ২৪ হাজার মানুষ। গতকাল সকাল থেকে আইসল্যান্ডের রাজধানী রেকজেভিকের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে কয়েক হাজার মানুষ। তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে।

তীব্র চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী গুনলাগসন আইসল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ওলাফুর র‍্যাগনার গ্রিমসনকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানান। তবে প্রেসিডেন্ট তাঁর আহ্বানে সাড়া দেননি। এরপরই পদত্যাগের জন্য ক্ষমতাসীন জোট সরকার থেকেও প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী গুনলাগসন। সরকারি জোট ও জনগণের দ্বিমুখী চাপের মুখে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে গুনলাগসন দাবি করেন, তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি এবং তার স্ত্রী আর্থিকভাবে লাভবানও হননি।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী গুনলাগসনের স্ত্রী আনা সিগুরলাগ পালসডোটিরের সই করা একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কোম্পানিটির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ফাঁস হয়ে যাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গুনলাগসনকে উইনট্রাসের সাধারণ আইনি ক্ষমতা দেয়া আছে। এর মধ্যদিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাকে কোম্পানিটি পরিচালনার সুযোগ দেয়া হয়।

তবে, গুনলাগসনের মুখপাত্র দাবি করেছেন, পালসডোটির সবসময় কর কর্তৃপক্ষের কাছে তার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। কিন্তু পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে উইনট্রাসের লাভ জানানোর প্রয়োজন নেই গুনলাগসনের।

এদিকে, অর্থ পাচারের তালিকায় নাম থাকা ধনাঢ্য ৮০০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তদন্ত শুরু হয়েছে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও পানামায়। এ ঘটনায় একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর ফাঁকি দেয়াকে একটি ‘বৈশ্বিক সমস্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। পানামা পেপারসে যে ৫০০ ভারতীয়’র নাম তালিকায় উঠে আসে, তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এক কোটি ১৫ লাখ নথি ফাঁস হয় গত সোমবার। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। নথিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নিকটাত্মীয়দের নাম আসে। এ তালিকায় সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ, মিশরের সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের এক ছেলে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দুই ছেলে ও মেয়ের নাম রয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পাশাপাশি ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি এবং ভারতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এবং তাঁর পুত্রবধূ ও অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়ার নামও অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

তবে, গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে অমিতাভ বচ্চন বলেছেন, তাঁর নামের অপব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া, ঐশ্বরিয়ার মিডিয়া পরামর্শক তা অস্বীকার করে বলেন, ওই নথিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।

এছাড়া, এই কেলেঙ্কারিতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের তিন সহযোগীর নাম প্রকাশ হওয়ার পরপরই ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ আসে। আর গতকাল ক্রেমলিনের মুখপাত্র এই কেলেঙ্কারিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য