উইসকনসিনে জয় পেলেন ক্রুজ, স্যান্ডার্সআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের এগিয়ে থাকা মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন দলটির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী টেড ক্রুজ।

জুলাই মাসে অনুষ্ঠিতব্য রিপাবলিকান দলের কনভেনশনের আগে দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডেলিগেট সমর্থন আদায় করতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত উইসকনসিন প্রাইমারিতে জয় পাওয়াটা দরকার ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের।  কিন্তু তাকে হারিয়ে দলটির মনোনয়ন দৌড় জমিয়ে তুলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রুজ।

রিপাবলিকান পার্টির মূল অংশ নিউ ইয়র্কের বিতর্কিত ধনকুবের ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেওয়ারবিরোধী। ট্রাম্পকে থামাতে কার্যত লড়াই করছেন তারা; কিন্তু বিভিন্ন বিতর্ক উস্কে দিয়ে রিপাবলিকান নেতাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ক্যারিশম্যাটিক ট্রাম্প একের পর এক অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়ে দলের নেতাদের কপালের ভাঁজ গভীর করে তুলছিলেন।

তাই ক্রুজের এই জয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন তারা। ক্রুজের এই জয়ে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন লড়াই প্রলম্বিত হয়ে জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে ডেমোক্রেট দলের এগিয়ে থাকা মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটনও উইসকনসিনে প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের কাছে হেরে গেছেন। এতে হিলারির সঙ্গে স্যান্ডার্সের ডেলিগেট ব্যবধান কমার পাশাপাশি স্যান্ডার্স শিবিরের উদ্দীপনাও আরও বেড়েছে।

চলতি বছরের ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এতে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হতে মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ১,২৩৭ ডেলিগেট সমর্থন পেতে হবে। এ পর্যন্ত ৭৩৭ ডেলিগেট সমর্থন পাওয়া ট্রাম্পের মনোনয়ন পেতে আরও ৫০০ ডেলিগেট সমর্থন দরকার।

অপরদিকে এ পর্যন্ত ৪৮১ ডেলিগেট সমর্থন পেয়ে ক্রুজ অনেকটা পিছিয়ে আছেন। তারপরও ক্রুজ ও দলটির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ওহিওর গভর্নর জন কাসিচ, জুলাইয়ে দলের সম্মেলনের আগে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডেলিগেট সমর্থন পাওয়া থেকে ট্রাম্পকে বিরত রেখে মনোনয়ন লড়াই সম্মেলনে পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ট্রাম্প ইতোমধ্যেই যথেষ্ট বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন। রিপাবলিকান দলের ভরাডুবির কারণ হতে পারেন আশঙ্কায় দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা ট্রাম্পের মনোনয়ন ঠেকিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় আছেন। তাই দলীয় সম্মেলনের আগে ট্রাম্প প্রয়োজনীয় ডেলিগেট সমর্থন না পেলে তার মনোনয়ন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়ন দৌড়ের শেষ সাতটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছয়টিতেই হিলারিকে হারিয়েছেন স্যান্ডার্স। কিন্তু অগ্রগামিতাকে ধরতে স্যান্ডার্সকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, আর তা বেশ কঠিন হবে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

১৯ এপ্রিল নিউ ইয়র্কে এবং ২৬ এপ্রিল পূর্বাঞ্চলীয় পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে প্রাইমারি ভোটাভুটির পর পরিস্থিতি অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে ধারণা তাদের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য