01 shakibশাকিব খান প্রযোজক হয়েছেন। হয়েছেন সকলকে জানান দিয়েই। বলা যায় ঢাকঢোল পিটিয়ে। গুলশানের ব্যয়বহুল হোটেল ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সকলের কাছে দোয়াও চেয়েছেন। সফল হবেনই এমন একটা আত্মবিশ্বাসও তার মধ্যে কাজ করছে। শুটিংয়ের আয়োজন দেখে মনে হলো খরচও করছেন বেশ ভালোই। বিভিন্ন ছবি এবং বিভিন্ন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা এ ছবিতে কাজে লাগাবেন এমন একটা পরোক্ষ মনোভাবও রয়েছে তার মধ্যে। তিনি অনেক পরিচালকের ছবিতে কাজ করলেও নিজের প্রযোজিত ছবিটির জন্য পরিচালক নিয়েছেন বদিউল আলম খোকনকে। ছবির নাম রেখেছেন হিরো-দি সুপার স্টার। দিনরাত ছবিটির কাজ চলছে এখন এফডিসিতে। কখনও দরকার হলে ষ্টুডিওর বাইরে গিয়েও কাজ করছেন। খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি ছবির কাজ গুটিয়ে ফেলতে চান। বিশেষ করে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আগেই। ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তিনি আবারও সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে বর্তমান সময়ে সমিতির সভাপতি হিসেবে তার কর্মকাণ্ডে কেউ খুশি নন। শিডিউল ব্যস্ততার কারণে তিনি সমিতির কাজে মনোযোগ দিতে পেরেছেন খুবই কম। তারপরও ছবি সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা তাকে সহযোগিতা করছেন প্রশ্নাতীতভাবেই, যাতে তিনি যথাসময়ে ছবিটির শুটিং শেষ করে নির্বাচনের কাজে মনোযোগ দিতে পারেন। প্রশ্ন এখানে নয়।
ক’দিন আগে সকাল দশটার দিকে এফডিসিতে গিয়ে দেখা গেল শাকিব উপস্থিত। কিন্তু শাকিব খানের জনপ্রিয়তা বাড়ার প্রায় সুদীর্ঘকাল পর তাকে সকালের শিফটে এতো তাড়াতাড়ি এফডিসিতে উপস্থিত হতে দেখা গেল। তার ছবিটির শুটিংয়ে তিনি নিয়মিতই এভাবে আসছেন। এ নিয়ে পরিচালক সমিতি থেকে শুরু করে এফডিসির সর্বত্রই একই কানাঘুষা যে অন্য প্রযোজকের ছবি হলে সকালের শিফটে তিনি আসতেন দুইটায় বা তিনটায়। নিজ প্রযোজিত ছবির কাজে তিনি চলে আসছেন যথাসময়েরও আগে। অন্যের টাকাকে তিনি টাকা মনে করেন না। নিজের টাকার যন্ত্রণা বেশ উপলব্ধি করছেন। নিজে প্রযোজক হয়ে বুঝতে পারছেন একটি ছবি বানাতে প্রযোজককে কতোটা বেগ পেতে হয়। প্রযোজক হয়ে ছবি নির্মাণের যন্ত্রণা বুঝতে পারছেন, বাকি যন্ত্রণা ভোগ করবেন ছবি বাজারজাত করার সময়ে।
অন্য প্রযোজকের ছবি হলে দেরি করে আসা আর নিজের ছবি হলে সকালে এসে বসে থাকার ক্ষেত্রে শাকিব খানই প্রথম নয়। এ ধারা শুরু হয়েছে রাজ্জাক থেকে। তার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন এবং মান্নাও। কিন্তু ফারুক কখনও অন্য প্রযোজক বা নিজের ছবি তফাৎ করেননি। তিনি অন্য প্রযোজকের ছবিতে যেভাবে কাজ করেছেন, ঠিক একইভাবে কাজ করেছেন নিজের ছবিতেও। শুধু ব্যতিক্রম সোহেল রানা ও রুবেল। সময়ের প্রতি তাদের একটা মূল্যায়ন। তারা নিজের ছবিকে যেমনটা মনে করেছেন অন্যের ছবিকেও সমানভাবে দেখেছেন। সে সম্মানটুকু তারা পান।
চলচ্চিত্র প্রযোজক একজন যে অর্থ উপার্জন করেছেন বা গ¬্যামার জগতে আবিস্ট হয়ে যে অর্থ লোকসান দিয়েছেন, তাদের তুলনায় তারকারা অনেক সুবিধাজনক অবস্থানেই থেকেছেন। তারা এখান থেকে শুধু উপার্জনই করেছেন, এখানকার উপার্জন দিয়ে সম্পদ গড়েছেন – তাদের অনেকেরই এ শিল্পের প্রতি কোনও অঙ্গীকার নেই। শাকিব খান চলচ্চিত্রের দুঃসময়েও পারিশ্রমিক কমাননি। জনপ্রিয়তাকে বাজারজাত করতে গিয়ে নাজেহাল করেছেন নির্মাতাদের। তিনি ধরেই নিয়েছেন, তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নির্মাতারা অর্থ উপার্জন করছেন। সুতরাং তিনি কেন ছাড় দেবেন। এর সঙ্গে শাকিবের আরও হাজার যুক্তি থাকতে পারে। কিন্তু যেসব নির্মাতা তাকে নিয়ে ছবি বানিয়ে পথে বসে গেছেন, তিনি তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। নাকি বিনা পারিশ্রমিকে আরেকটি ছবিতে কাজ করে দিয়ে সহায়তা করেছেন। শাকিব খানকে তৈরি করেছে চলচ্চিত্র শিল্প। সে কৃতজ্ঞতাবোধটুকু কি তার থাকবে না?

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য