রাণীশংকৈলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রয়াত দুই প্রাণ পুরুষরাণীশংকৈল প্রতিনিধি ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানের আদর্শের দুই প্রয়াত প্রাণ পুরুষ মোঃ মিজানুর রহমান ও আলী আকবর এমপি রাণীশংকৈলের মাটিতে চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছেন। এ দেশের আকাশে বাতাসে যখন দেশ স্বাধীনতা ও বিজয়য়ের গানের সুর ভেসে উঠে তখনি মনে করিয়ে দেয় বঙ্গবন্ধুর কথা, মনে করিয়ে দেয় এই দুই প্রাণ পুরুষের আত্মত্যাগের কথা। দেশ স্বাধীকার আন্দোলনের স্বপ্ন পুরুষ জেল জুলুম অত্যাচার নিপিড়নকে উপেক্ষা করেছেন বাংলার রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান। স্বাধীন বাংলার মাটিতে জাতির জন্য নতুন সুর্য এনে এ দেশকে একটি সুখের নীড় গড়ার স্বপ্নে আন্দোলনের দায়িত্বভার কাঁধে নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বিনিময়ে পাক শাসকদের অমানবিক কর্মকান্ডের শিকার হতে হয়েছে রাখাল রাজাকে।

দেশ স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধুর পরিবারে অমানবিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। চিরতরে তার আদর্শকে অমøান করে দিতে চেয়েছিল একটি কুচক্রী মহল। এমন এক মহুর্তে রাখাল রাজার আদর্শকে মানুষের মনে প্রাণে পৌঁছে দিতে দলমত ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন দুই প্রাণ পুরুষ। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতেন, ছুটে যেতেন তাদের সুখে দুঃখে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, আদর্শের কথা পৌঁছে দিতেন সবার কাছে। উপজেলার মানুষের হৃদয়ে আঁচড় কেটেছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিত করে ভালবাসার টানে। পাক বাহিনীকে পরাজিত করার শক্তি গঠনে উপজেলা ডাক বাংলোতে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করেন দুই প্রাণ পুরুষ। বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান এই দুই প্রাণ পুরুষের নির্দেশে যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

প্রাণপুরুষ মিজানুর রহমানের জš§ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। ধর্মভিরু মানুষ ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার পান জনগণের ভোটের মাধ্যমে। সঠিক নেতৃত্বের উপহার স্বরূপ জনসেবার দায়িত্বটা তিনার কাঁধে তুলে দেন জনগণ। বেশ সফলতার সাথেই জনগণের দেয়া দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে এলাকাবাসির সাথে আলাপকালে ভালবাসার টান ছুটে আসে তিনার প্রতি। সব সময় হাসিখুশি মুখে থেকে মানুষের হৃদয়ে একেবারে মিশে যেতেন। উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি মুহতাসিন মিজানুর রহমানকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভালবাসার টানে কেঁদেই ফেললেন।

অপরদিকে উপজেলার সন্ধ্যারই গ্রামের আলী আকবর এমপি মানুষের হৃদয়ের মনি ছিলেন। জনগণ বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই প্রাণ পুরুষের কাঁধে এমপির দায়িত্বভার তুলে দেন। পট পরিবর্তনের সাথে অনেক লোভ লালসার বাতাস আসতে থাকে তিনার কাছে। দল ত্যাগ করে ক্ষমতাসিন দলে যোগদান করে মন্ত্রীত্ব লাভের। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই সৈনিক নিজের জায়গা জমি ধন দৌলত বিসর্জন দিয়ে জনসেবা করেছেন। তিনি লোভ লালসাকে প্রত্যাক্ষান করে বাংলাদেশ আ’লীগের পতাকা তলেই থাকেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নীতির বাস্তবতার রূপ দেন রাণীশংকৈলের মাটিতে। জনগণের ভালবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রাখেন এই প্রাণ পুরুষ। সফলতা সঠিক নীতিগত আদর্শের স্বাক্ষর রেখে যান তিনি।

রাণীশংকৈলের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন দুই প্রাণ পুরুষ। যথোপযুক্ত মুল্যায়ন করা হচ্ছে না বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই সৈনিকদের আত্তার প্রতি। স্বাধীনতাকামীরা মনে করছেন উপজেলার প্রধান ফটকের সামনে রাণীশংকৈলের প্রয়াত দুই প্রাণ পুরুষের ভাস্কর্য তৈরী করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মাইল ফলক’র রূপ দেয়া হোক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য