দিনাজপুরে নয়নপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় করন অপরিহার্য

ছবিঃ সাহেব, দিনাজপুর।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে প্রায় ২ হাজার ৫’শ শিশুকে শিক্ষার আলো দিতে নয়নপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে ১৯৯৭ সালে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রীষ্টান ও আদিবাসী সন্তানদের শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে এলাকার কতিপয় উদ্দোমী যুবক এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ার উদ্যোগ নেয়। বিনা বেতনে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিম্ন শ্রেনী ও খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানদের স্কুলের আসা উৎসাহ যোগায় ও শিক্ষা দিতে থাকে।

দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও সরকারী কোন সহযোগিতা ও বিদ্যালয়টি জাতীয়করন না হওয়ায় নিভু নিভু ভাব দেখা দিয়েছে। এই স্কুলটি জাতীয়করন না হলে প্রায় আড়াই হাজার আদিবাসী, খ্রীস্টান, হিন্দু ও মুসলিম শিশু সন্তান শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে। সরকারের হস্তক্ষেপ হলেই আবার শিক্ষার আলো জ্বলে উঠবে এই বেসরকারি বিদ্যালয়টি। বর্তমানে ৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ১৬০ জন শিশু ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পড়াশুনা চলছে। স্কুলে ৪টি রুম, ৩টি ক্লাশ রুম, ১টি অফিস রুম রয়েছে। প্রথম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত রয়েছে এ বিদ্যালয়।

২০১৫ সালে সমাপনীতে ৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে মেধায় উর্ত্তীণ হয়। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, ১নং চেহেলগাজীর ৯নং ওয়ার্ডে প্রায় ৬টি মহল্লায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। ৬টি ওয়ার্ডে একটি মাত্র স্কুল । এর মধ্যে মির্জাপুর মহল্লায় খ্রীষ্টান, কিসমত ভুই পাড়া হিন্দু, পশ্চিম শিবরামপুর আদিবাসী  ও নয়নপুর মহল্লা আংশিক হিন্দুদের বসবাস। এসব মানুষ সবই কৃষক-শ্রমিক তথা খেটে খাওয়া মানুষ। অর্থ দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করার ক্ষমতা তাদের নেই।

এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এসব খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে সন্তানদের পড়াশোনা করার মনমানষিকতা জাগ্রত হয়। এই প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বেতন ছাড়াই প্রধান শিক্ষক রুবিনা ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আজাদ, আম্বিয়ারা, মেরিনা বেগম শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য একটি নয়নপুরের কৃষক, শ্রমিক, দুঃস্থ ও আদিবাসীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। কিন্তু বিদ্যালয়টি জাতীয়করন না হওয়ায় ও অর্থের অভাবে দিন দিন নিভু নিভু ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়টি রক্ষার স্বার্থে ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখতে  জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ২২ মার্চ মঙ্গলবার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান স্কুলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, অত্র এলাকার সিংহভাগ মানুষ কৃষক, শ্রমিক ও দুঃস্থ। এই এলাকায় মুসলিম, হিন্দু, খ্রীষ্টান ও আদিবাসীদের রয়েছে। এ ধরণের একটি প্রতিষ্ঠান অত্র এলাকায় অপরিহার্য।

এ সময় সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আলাউল হাদি ও দিনাজপুর জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি আল মামুন সরকার উপস্থিত ছিলেন। মামুন জানান, ৬টি মহল্লায় আদিবাসী, হিন্দু ও খ্রীষ্টানদের সংখ্যা বেশী। অর্থের অভাবে এরা সন্তানদের স্কুলে পাঠায় না। এই স্কুলটি গড়ে উঠার পর ওদের মধ্যে শিক্ষা লাভের আশা জাগ্রত হয়েছে। বিদ্যালয়টি জাতীয় করন করা হলে খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানরা শিক্ষা আলো পাবে। অন্যথায় শিক্ষার আলো থেকে এসব শিশু ঝড়ে পড়বে। অন্ধকার হবে তাদের ভবিষ্যৎ।  বিদ্যালয়টিকে রক্ষা করতে সরকারি পদক্ষেপ অতি জরুরী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য