UPEআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ৩নং দামোদরপুর ইউনিয়ন আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী চুড়ান্ত নিয়ে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, দলীয় নির্দেশে প্রার্থী চুড়ান্তের লক্ষে দামোদরপুর ইউনিয়ন আ’লীগের আয়োজনে কান্তনগর বিনয় ভূষন উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে রবিবার বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মন্ডলের সভাপতিত্বে উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি মোজাহারুল ইসলামসহ ইউনিয়ন আ’লীগের ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের সভাপতি-সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চেয়ারম্যান প্রার্থী চুড়ান্ত নিয়ে ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের সভাপতি-সম্পাদক তাদের প্রস্তাব ও মতামত ব্যক্ত করেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দামোদরপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি মনোয়ারুল হাসান জীম মন্ডল ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের নাম প্রস্তাব করেন।

পরে ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের সভাপতি-সম্পাদকসহ উপস্থিত নেতাকর্মীরা সর্বসম্মতিক্রমে দু’জন প্রার্থীর নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তাব দেন ইউনিয়ন সভাপতি-সম্পাদককে। কিন্তু ইউপি আ’লীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম গোপন ব্যালটে প্রার্থী চুড়ান্তের জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি একাধিবার প্রস্তাব দেন।

এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাত উচিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান মনোয়ারুল হাসান জীম মন্ডলকে দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করতে শ্লোগান দিতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি-সম্পাদক কোন সিন্ধান্তে পৌছাতে না পারায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা সভাস্থল ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে দামোদরপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রিপুল বলেন, ‘সভায় তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দু’জনের নাম প্রস্তাব করলেও গোপন ব্যালটের প্রস্তার দেওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

দামোদরপুর ইউনিয়ন আ’লীগের ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সভায় উপস্থিত অধিকাংশ নেতাকর্মী বর্তমান চেয়ারম্যান মনোয়ারুল হাসান জীম মন্ডলকে দলীয় প্রতিক দেওয়ার প্রস্তাব ও সমর্থন করেন। তারপরেও সিন্ধান্ত না নেওয়ায় নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন’।

এ বিষয়ে মনোয়ারুল হাসান জীম মন্ডল বলেন, ‘দলের প্রতি আস্থা রেখে কেন্দ্রের সিন্ধান্তেই তিনি কাজ করবেন। তবে দলের কোন নেতা মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে অংশ নিলে তা হবে দলীয় সিন্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল’।

সভাপতি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু ইউনিয়নে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। সেকারণে কেন্দ্র একাধিক প্রার্থীর নামের তালিকাই পাঠানো হবে। দলের হাই কমান্ড যাকে মনোনয়ন দিবেন দলের নেতাকর্মী তার পক্ষেই কাজ করবে’।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য