দমন করে আমাদের আন্দোলন থামানো যাবে নাআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওমর খালিদ এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে আদালত। শুক্রবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট তাদের ৬ মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। রাত সাড়ে আটটার দিকেব দিল্লির তিহার জেল থেকে মুক্তির পর তারা জেএনইউ ক্যাম্পাসে পৌঁছে প্রায় দুই হাজার ছাত্র এবং শিক্ষকদের সামনে বক্তব্য রাখেন।

ওমর খালিদ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার ও আরএসএস যদি মনে করে দমন করে আমাদের আন্দোলন থামাতে পারবে তাহলে তারা ভুল ভাবছে।’ ওমর খালিদ বলেন, ‘আমি গর্বিত আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ব্যবহার করে একসময় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কারাগারে পাঠানো হতো। আমি নিজেকে মুসলিম ছাত্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরি না। তবুও এমন ব্যবহার করা হচ্ছে, যেন আমি ইসলামী সন্ত্রাসবাদী!’ তিনি বলেন, ‘দেশে গণবিরোধী, কৃষক বিরোধী সরকার রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমাদের বিদ্রোহ অব্যাহত থাকবে।’

সরকার বিরোধী স্লোগান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা গর্বিত যে আমাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা হয়েছে, কারণ দেশের জন্য যারা লড়াই করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ওই ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। আমাদের বিদ্রোহ অব্যাহত থাকবে।’ অন্যদিকে, জামিনে থাকা ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমার বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক দলের উচিত ইংরেজ আমলের রাষ্ট্রদ্রোহিতা আইন মুছে ফেলতে এগিয়ে আসা। রাষ্ট্রদ্রোহিতা আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী স্লোগান দেয়া এবং অন্যান্য তৎপরতার অভিযোগে পুলিশ কানহাইয়া, ওমর এবং অনির্বাণদের গ্রেফতার করে। কানহাইয়া আগেই জামিন পেলেও শুক্রবার জামিনে মুক্ত হন ওমর খালিদ এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্য। এদিকে, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া অধ্যাপক এস এ আর গিলানিকে মুক্তি দেয়ার দাবিতে সরব হয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন। ডিইউটিএ-র দাবি, জাকির হুসেন কলেজের অধ্যাপক গিলানিকে অবিলম্বে কাজে যোগ দেয়ার অনুমতি দিতে হবে। শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের সমালোচনাও করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য