Gaibanda Mapআরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই ভোট প্রার্থনা করতে প্রার্থীরা কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছেন। আগামী ৩১ মার্চ ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ। ইতোমধ্যে মনোনয়ন পত্র দাখিল, যাচাই বাছাই ও প্রত্যাহার পর্ব শেষে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্যসহ বর্তমানে ৮১৫ প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৯২, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৮৯ ও সাধারণ সদস্য পদে ৫৩৪ জন। চেয়ারম্যান পদে দলীয়ভাবে ৩৮ জন ও স্বতন্ত্র হিসেবে রয়েছেন ৫৪ প্রার্থী।

এদিকে প্রার্থীরা তাদের পছন্দের প্রতীক পেয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। এ নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়ায় প্রার্থী ও সমর্থকরা তাদের নিজ নিজ দলের অবস্থান ভোটারদের মাঝে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিন-রাত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা ও সাধারণ সদস্যরাও বসে নেই। বিজয়ের মালা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আগে দোয়া পরে ভোট প্রার্থনা করছেন। নিজেকে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী হিসেবে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন অনবরত। মরচে পড়া আত্মীয়স্বজনদের সাথেও সখ্যতা গড়ে তুলছেন। বন্ধু বান্ধবদের দেখা না পেলে মোবাইলে কথা বার্তা বলছেন। ভোটারদের বাড়িতে ঢুকেই ভাইগো, ভাবীগো, চাচাগো, চাচীগো, দাদাগোসহ যাকে যেভাবে সম্মধন করা যায় সেভাবেই ডাকছেন প্রার্থীরা। সব প্রার্থীরাই বলছেন নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। আ’লীগ মনোনীত প্রার্থীদের গলার কাঁটা হয়ে বিদ্রোহীরাও মাঠে এগিয়ে রয়েছেন। অনেক বিদ্রোহীই জয়ের মালা ছিনিয়ে নিবেন। দলীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে বিদ্রোহীরা এরই মধ্যে ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান শক্ত করে তুলেছেন। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ৯ জন। আ’লীগ মনোনীত ইউনিয়ন সভাপতি শমেস উদ্দিন (নৌকা), বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন সাবেক সভাপতি মজনু মিয়া (অটোরিক্সা) ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম জাবেদ (ঘোড়া) নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল গফুর মন্ডল (আনারস), মাহবুবার রহমান খান (মোটর সাইকেল) ও সমস উদ্দিন (চশমা)। বিএনপির নাজমু হুদা (ধানের শীষ) ও জাপার রেজাউল হক রেজা (লাঙ্গল) বিদ্রোহী ছাড়াই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ৩১০ জন। ধানের শীষ, লাঙ্গল ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সোনারায় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬ জন। এরমধ্যে জাপার আনছার আলী সরদার (লাঙ্গল), আ’লীগের সৈয়দ বদিরুল আহসান, বিএনপির মতিয়ার পারভেজ (ধানের শীষ) দলীয় প্রার্থী রয়েছেন। আ’লীগের একমাত্র বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উদয় নারায়ণ সরকার (আনারস), সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন (মোটর সাইকেল) ও নিশাম উদ্দিন (চশমা) ভোট যুদ্ধে রয়েছেন। এ ইউনিয়নে সৈয়দ বদিরুল আহসান, আনছার আলী সরদার ও জাকির হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৩০ জন। তারাপুর ইউনিয়নে ৩ প্রার্থী। আ’লীগের আব্দুস সামাদ (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম (মোটর সাইকেল) ও একরামুল হক (আনারস)। আব্দুস সামাদ ও আমিনুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বেলকা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮ জন। দলীয় প্রতীকে জাসদের আজিজুল ইসলাম (মশাল), বিএনপির আব্দুল জব্বার দুলাল (ধানের শীষ), আ’লীগের মজিবর রহমান (নৌকা)। আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা কমিটির সদস্য জহুরুল হক সরদার (মোটর সাইকেল), কামরুজ্জামান সরদার (চশমা) ও আশরাফুল আলম সরকার (আনারস)।

এছাড়া জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ (দুটি পাতা) ও স্বতন্ত্র শহিদুল ইসলাম নাদিম (ঘোড়া)। ১৭ হাজার ৫৩৮ জন ভোটারের এ ইউনিয়নে মজিবর রহমান, জহুরুল হক সরদার ও আব্দুল জব্বার দুলালের মধ্যে ভোট যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। দহবন্দ ইউনিয়নে আ’লীগের গোলাম কবির (নৌকা), বিএনপির  খোরশেদ আলম (ধানের শীষ), জাপার আব্দুল রাজ্জাক প্রামানিক (লাঙ্গল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান মন্ডল (আনারস), আমিনুল ইসলাম সাজু (মোটর সাইকেল), গোলাম মোস্তফা প্রামানিক (চশমা)। এর মধ্যে আমিনুল ইসলাম সাজু জাসদের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জামায়াত সমর্থিত ও বিগত নির্বাচনে অতি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি গোলাম মোস্তফা প্রামানিক, গোলাম কবির মুকুল, শাহজাহান মন্ডল ও খোরশেদ আলমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্য ১৫ হাজার ৯৮৮ জন। সর্বানন্দ ইউনিয়নে একেএম নুরুন্নবী মিয়া (ধানের শীষ), মশিউর রহমান সরকার (লাঙ্গল), এটিএম রফিকুল ইসলাম (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুর রহমান (চশমা), শফিউল হোসেন (দুটি পাতা), শহিদুর রহমান (মোটর সাইকেল), বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া (ঘোড়া), শামুছুল আলম (আনারস) ও হাসানুল মান্নান (টেলিফোন) নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ ইউনিয়নে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুর রহমান। ২৪ হাজার ৪০৫ ভোটের এ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া এগিয়ে রয়েছেন। রামজীবন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ১০ জন। এরমধ্যে এটিএম এনামুল হক মন্টু (লাঙ্গল), খন্দকার এটিএম মাজেদুর রহমান (চাকা), সুনীল কুমার বর্মন (নৌকা)। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হচ্ছে ইদ্রিস আলী (অটোরিক্সা), এটিএম সাখাওয়াত হোসেন (ঘোড়া), জামায়াত সমর্থিত আলহাজ্ব মিজানুর রহমান (চশমা), আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শামছুল হুদা সরকার (টেবিল ফ্যান), শাহ মোঃ মুন্নাফ সরকার (টেলিফোন), সাফায়েত আলী (মোটর সাইকেল) ও হাসান আলী (আনারস)। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭৮ জন। নির্বাচনী মাঠে জাপা এটিএম এনামুল হক মন্টু ও জামায়াতের মিজানুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন। ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। এরমধ্যে ২ জন আ’লীগের বিদ্রোহী। এরা হলেন ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ (মোটর সাইকেল) ও সাবেক ছাত্র নেতা রওশন আলম আকন্দ (আনারস)। ভোটের মাঠে এদেরও অবস্থান শক্ত।

এছাড়া আ’লীগ মনোনীত মোখলেছুর রহমান রাজু (নৌকা), এটিএম মাহবুব আলম শাহিন (লাঙ্গল), জামায়াত সমর্থিত আমিনুল ইসলাম সাজু (চশমা), এটিএম রাশেদুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ), মোখলেছুর রহমান মন্ডল (ঘোড়া) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে জাপার এটিএম মাহবুব আলম শাহিন, আ’লীগের মোখলেছুর রহমান রাজু ও জামায়াতের  আমিনুল ইসলাম সাজুর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৮৬৬ জন। ৯নং ছাপড়হাটী ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৩৫ জন। প্রার্থীর সংখ্যা ৯ জন। এরা হলেন জাপার আশরাফুল আলম (লাঙ্গল), আ’লীগের কনক কুমার গোস্বামী (নৌকা), বিএনপির তারা মিয়া (ধানের শীষ), জাসদের মামুন উর রশিদ প্রামানিক রুবেল (মশাল) ও স্বতন্ত্র আশাদুজ্জামান (রজনীগন্ধ্যা), ইয়াসিন আলী (চশমা), জোস্না বেগম জনতা (আনারস), তাজুল ইসলাম (মোটর সাইকেল), মোফাচ্ছেরুল ইসলাম (ঘাড়া)। এখানে নৌকা, আনারস ও চশমা প্রতীকের মধ্যে ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ১০ নং শান্তিরাম ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন। এরা হলেন জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ছামিউল ইসলাম (মোটর সাইকেল), এটিএম মিজানুর রহমান (অটোরিক্সা), মমিনুর রহমান (আনারস), আব্দুল মান্নান সরকার হান্নান (ঘোড়া), সাজেদুল ইসলাম (চশমা), শরিফুল ইসলাম শাহিন (লাঙ্গল), মোস্তাফিজুর রহমান (নৌকা), ফারুক হোসেন (ধানের শীষ)। এ ইউনিয়নে ছামিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমানের মধ্যে ভোট যুদ্ধ হবে। ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৮০ জন। কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। লড়াইয়ের সৈনিকরা হচ্ছেন সাবেক চেয়ারম্যান দুর্লভ চন্দ্র মন্ডল (আনারস), শফিউল ইসলাম (নৌকা), মনোয়ার আলম সরকার (ধানের শীষ) ও আশরাফুল আলম চাকলাদার লিটন (লাঙ্গল)। অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান (ঘোড়া) ও আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল করিম সরকার (চশমা)। ভোটার সংখ্যা ২৬ হাজার ১১৮ জন। শ্রীপুর ইউনিয়নে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন আজাহারুল ইসলাম (আনারস), আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রী জ্যোতিভূষণ বর্মন (মোটর সাইকেল), একেএম ফজলুল হক মন্ডল (ঘোড়া), শহিদুল ইসলাম (নৌকা), শাহাদত হোসেন (ধানের শীষ) ও আব্দুল হামিদ সরকার (চশমা)। এ ইউনিয়নে ধানের শীষ, নৌকা ও আনারস প্রতীকের মধ্যে ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোট সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৪৪ জন। ইউনিয়নে ৭ প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এরা হলেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ (নৌকা), আব্দুল মালেক মিয়া (ধানের শীষ), ফুল মিয়া (লাঙ্গল), আবু রায়হান সরকার (ঘোড়া), ফজলুল হক সরকার (চশমা), আ’লীগের বিদ্রোহী মাইদুল ইসলাম টেক্কা (আনারস), রাজা প্রামানিক (মোটর সাইকেল)। ২১ হাজার ৭০৭ জন ভোটারের এ ইউনিয়নে ধানের শীষ, নৌকা, লাঙ্গলের মধ্যে ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৩ ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৫৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪২ হাজার ৬০১ জন। মহিলা ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৪ জন। ১৩ ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩৯, সাধারণ ওয়ার্ডের সংখ্যা ১১৭। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৪, ভোট কক্ষ ৮১৭ টি। সাধারণ ভোটারদের কামনা ভোট অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য