ট্রান্সফরমারবিদ্যুতের রুগ্ন বিতরণ ব্যবস্থায় উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় ওভারলোডেড ট্রান্সফরমারের ওপর ভর করে চলছে সৈয়দপুরের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা। ফলে চাহিদামত বিদ্যুৎ প্রাপ্তির পরও বিঘিœত হচ্ছে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিদ্যুৎ ব্যবহারে ওভারলোডের কারণে টেকসই হচ্ছে না মূল্যবান বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার। গৃহস্থালী কাজে ইলেকট্রোনিক্স পণ্যের ব্যবহার অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা বাড়ছে। বিপর্যয়ের ফলে এ যাবত ৬১টি ট্রান্সফরমার বদল করতে হয়েছে। এসব ট্রান্সফরমার অননুমোদিত লোডের চাপে বিনষ্ট হয় বলে দপ্তর সূত্রে জানা যায়।[ads2]

জানা যায়, স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের ১১ টি ফিডারে আওতায় সৈয়দপুর অঞ্চলে ৩শ কিলোমিটার বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন রয়েছে। এসব বিতরণ লাইনে সিংহভাগই শহরাঞ্চলে বিস্তৃত। অতিপুরাতন এসব বিতরণ লাইনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এসব গ্রাহক অনুমোদিত লোডের বাইরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় বিদ্যুতের ওভার লোড ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। এতে করে ওভার লোড বিদ্যুৎ দপ্তরের বিপদজনক সমস্যা হয়ে উঠেছে। ফলে সৈয়দপুরে বিদ্যুতের লোডশেডিং না থাকলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছে শহরবাসী। আবাসিক এলাকায় হালকা শিল্প-কারখানা স্থাপন ও গৃহস্থলী কাজে দিন দিন ইলেক্ট্রোনিক্স পণ্যের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তারা বিদ্যুতের অননুমোদিত লোড ব্যবহার করছে। বিশেষ করে পাড়া-মহল্লায় স্থাপিত ট্রান্সফরমারের ক্ষমতার চেয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে।[ads2]

ফলে এয়ারকুলার, ওভেন, হিটার, রাইস কুকার ও কারিকুকার’র মত পণ্য সামগ্রীসহ ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চার্জ দেয়ায় ওভার লোডের বিপদ সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া রয়েছে নন-ষ্ট্যান্ডার্ড সংযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগে ডুয়েল সোর্স ব্যবহার অন্যতম। এতে করে ওভার লোডের ধকল নিয়ে চলছে সৈয়দপুরে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বিতরণ লাইনের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৬০ টি ট্রান্সফরমার সচল রয়েছে। এসব ট্রান্সফরমার ওভার লোড নেয়ার মত সহনীয় ও ভারসাম্যপূর্ণ নয়। ভারি বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ট্রান্সফরমার। ফলে ফেস আনব্যালেন্সডসহ ওভার লোডের চাপে ঘনঘন বিকল অথবা পুড়ে যাচ্ছে মূল্যবান ট্রান্সফরমার। এতে করে বিপুল ব্যয়ে ঘন ঘন ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করতে হচ্ছে। সূত্র মতে, মান্ধতা আমলে স্থাপিত সিংহভাগ পুরোনো ট্রান্সফরমারের কারণেও এমনটি ঘটছে অহরহ। এ ছাড়া কয়েক যুগ আগে স্থাপিত বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় এর ধকল সইতে হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরকে। সব মিলিয়ে বিদু্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রাহককে।[ads1]
সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, পুরনো বিতরণ লাইন এবং দিন দিন অননুমোদিত লোডের পরিমাণ উচ্চহারে বেড়ে যাওয়ায় ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হওয়ায় এর ভুক্তভোগী হচ্ছেন গ্রাহকরাও। এ অবস্থায় সমস্যা সমাধানে অননুমোদিত লোড সনাক্ত করতে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অননুমোদিত লোড ব্যবহার করায় সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ জরিমানা দন্ড দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগে অটোরিক্সার বাটারী চার্জ ও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রোনিক্স পন্য বড় বিপদ সৃষ্টি করেছে। যার মধ্যে বেশ কিছু পণ্য ব্যবহারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
[ads1]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য