ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র লিপ্ত আমেরিকা ও ইসরাইলআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ও অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আজ এ বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে অনেক মার্কিন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কর্মসূচি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের লঙ্ঘন নয়।[ads1]

তারপরও জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্তা পাওয়ার ইরানের এ পদক্ষেপকে উস্কানিমূলক বলে মন্তব্য করে দাবি করেছেন এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত গতকাল(শুক্রবার) বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আলোচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে বিশেষ বৈঠক ডাকার আহবান জানিয়েছে।[ads1]

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল জরুরী বৈঠকে মিলিত হবেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের প্রতিনিধিও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানানোর জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
[ads1]

২০১৫ সালের এপ্রিলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ জাতিসংঘের পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বিষয়ক সম্মেলনে গিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, এটা খুবই হাস্যকর বিষয় যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অন্যদের পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধের পরামর্শক বা শিক্ষকে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ৪০০টি পরমাণু ওয়ারহেডের ওপর বসে আসেন। অথচ পরমাণু ওয়ারহেড পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।[ads2]

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক দশক ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইল নানান অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারা এটাই তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে যে, ইরানের সমর শক্তি এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য হুমকি। এমন সময় এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যখন ইরান এনপিটি’র সদস্য এবং এর সমস্ত নিয়ম কানুন দেশটি মেনে চলছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবীয় মূল্যবোধের কারণে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরোধী এবং দেশটির প্রতিরক্ষা নীতিতে পরমাণু অস্ত্রের কোনো স্থান নেই। এরই মধ্যে ইরান আগামী ২০১৮ সালে বিশ্ব থেকে পরমাণু অস্ত্র নির্মূলের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, অথচ শত্রুর যে কোনো আগ্রাসন ও হুমকি থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি সব দেশেরই ন্যায্য অধিকার। জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী ইরানেরও এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এ অবস্থায় যারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে তাদের আসলে অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।[ads2]

এসব উদ্দেশ্যের অন্যতম হচ্ছে, ইরান আতঙ্ক সৃষ্টি করা। আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আর তা হচ্ছে, পরমাণু ক্ষেত্রে সমঝোতার পর আমেরিকা ও ইসরাইল এখন নতুন করে ইরান বিরোধী নানা পরিকল্পনা আঁটছে। এরই অংশ হিসেবে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিরাপত্তা পরিষদে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে যাতে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা যায়।
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য