rapeকুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীর যৌন হয়রানির পর এবার লালমনিরহাটের নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।[ads1]

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার আর্দশপাড়া গ্রামের এক ষোড়শী কন্যা নেছারিয়া কামিল মাদরাসায় দশম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত। উক্ত ছাত্রীর বাবা প্রবাসী হওয়ার সুবাদে ছাত্রীর পড়াশুনার দেখভাল করার জন্য মাদরাসার অধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন প্রায়শই তার বাড়িতে যাতায়াত করত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উক্ত অধ্যক্ষ ওই ছাত্রীর বাসায় যায়। ছাত্রীকে এসএসসি পরীক্ষার সাজেশন দেয়ার অজুহাতে এবং পরীক্ষার ফলাফল কিভাবে ভালো করা সম্ভব, সে ব্যাপারে ছাত্রীর মায়ের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় লিপ্ত হন তিনি। পরে সুযোগ বুঝে ছাত্রীর মাকে জড়িয়ে ধরে আপত্তিকর স্থানে চাপ দিয়ে বিবস্ত্র করে বিছানায় শোয়ানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।[ads1]

এক পর্যায়ে ছাত্রীর মা আত্মরক্ষা পূর্বক অধ্যক্ষ’র উপর চড়াও হলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ। পরে তাৎক্ষণিকভাবে লম্পট অধ্যক্ষ রোষানলের শিকার ওই ব্যক্তি মাদরাসার এক শিক্ষককে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগত করলে কথিত লম্পট অধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ছাত্রীর এসএসসি পরীক্ষায় বিঘœতা সৃষ্টিসহ তার শিক্ষা জীবন ধ্বংস করে দিবেন বলে হুমকি অব্যাহত রাখেন। উপায়ন্তর না দেখে মুখ বুঝে সময় পার করেন ঘটনার শিকার অসহায় সেই নারী। কিন্তু মেয়ের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হলে সৃষ্ট ঘটনার বিচার দাবি করে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোসলেম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জানা যায়, প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগটি প্রেরণ করা হয়েছে। তবে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ  হাতে পেলেই তদন্ত করে আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।[ads1]

এদিকে জেলার সনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত কামিল মাদরাসার খোদ অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই মাদরাসা শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ, চাপা উত্তেজনা ও উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। বিব্রত বোধ করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ জেলার আলেম ওলামাগন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে অভিযুক্ত ব্যক্তির অপসারণসহ কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য যে, কথিত চরিত্রহীন, লম্পট, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন পূর্বের কর্মস্থল কুড়িগ্রামের উলিপুরে এমন অনেক নারী ঘটিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সুত্র নিশ্চিত করেছে। যা সুষ্ঠু তদন্ত করা হলেই বেড়িয়ে আসবে।
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য