কানহাইয়া’র জিভ কেটে আনলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কারআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দিল্লির জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমারের ভাষণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি’র যুব শাখা ‘ভারতীয় জনতা যুবমোর্চা’ এক নেতা। কুলদীপ ভারষ্ণি নামে ওই নেতা কানহাইয়া কুমারের জিভ কেটে আনলে তাকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন!

আজ (শনিবার) বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রে প্রকাশ, ভারতীয় জনতা যুবমোর্চার উত্তর প্রদেশের বাদায়ুনের জেলা প্রেসিডেন্ট কুলদীপ ভারষ্ণির অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশ বিরোধী এবং আফজাল গুরুর সমর্থনে স্লোগান দেয়ার পরে কানহাইয়া বিভিন্নজনকে টার্গেট করছেন। তিনি আমাদের পিতার তুল্য মোদিকেও টার্গেট করেছেন। এজন্য তার জিভ যে কেটে আনবে তাকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেব।’

জেএনইউ ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমারকে দেশদ্রোহের অভিযোগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ গ্রেফতার করে। এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। অবশেষে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরে গত ৩ মার্চ তিহার জেল থেকে মুক্ত হন কানহাইয়া। ওইদিনই রাতে জেএনইউ ক্যাম্পসে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি, আরএসএস, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির তীব্র সমালোচনা এবং কটাক্ষ করে বক্তব্য রাখেন।

তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে। পরে কয়েকটি টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাতকারেও তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। যদিও কানহাইয়ার ওই বক্তব্যে বেজায় চটেছেন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা নেতা কুলদীপ। তিনি এক আজব ঘোষণা দিয়ে কানহাইয়ার জিভ কেটে আনলে তাকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে জেএনইউ ক্যাম্পাসে দেয়া বক্তব্যের সমর্থন করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার, উপ- মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব, কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংসহ বহু বিশিষ্ট নেতা।

এদিকে, বিজেপি’র পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্ট দিলীপ ঘোষের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংবাদে প্রকাশ, তিনি গত বৃহস্পতিবার এক মন্তব্যে বলেছেন, ‘যারা এখানে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলবে, তাদের উপর থেকে ৬ ইঞ্চি উড়িয়ে দেয়া হবে। এখন দিন বদলে গেছে।’

এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট অধীর চৌধুরী বলেন, ‘আমি আইএসআইএল এবং আরএসএস-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছি না।’ সিপিআই(এম) নেতা মুহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘পাকিস্তানে তালিবান যা করছে, আরএসএস ভারতে সেটিই করছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য