বালিয়াডাঙ্গী(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শুধু ধান বা চাল নয় অন্যান্য চাষাবাদেও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলাটি সুনামে খুটি গেড়ে বসেছে দীর্ঘ দিন ধরে। ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রতিটি অঞ্চলে একসময় কৃষি কাজে ব্যবহৃত হতো গরূর হাল ও গরুর গাড়ী। সে সময় খেতে খামারে কৃষকের লাঙ্গল আর মই দিয়ে চাষাবাদের দৃশ্য ও গরুর গাড়ীর ব্যবহার সবার নজর কাড়তো। কৃষকের কন্ঠে,শোনা যেত ভাটিয়ালী গান-বাড়ীর পাশে বেতের অ্যাড়া হাল জুড়িছে ছোট দেওরা রে এত বেলা হৈল ভাবী জান পাšতা নাই মোর ক্ষেতে রে। একই ভাবে গরূ গাড়ী হাকিয়ে গাড়ীয়ালাদের মুখে শোনা যেত ওকি গাড়ীয়াল ভাই হাকাও গাড়ী জাউনিয়া বন্দরে ইত্যাদি কিন্তু সাহিত্য,তথ্য প্রযুক্তি ও আধুনিক আবিস্কারের যুগে এই চিরাচরিত গান হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার বছরের এতিহ্যবাহী চাষাবাদে ব্যবহৃত বাশঁ বা কাঠের তৈরি হাতল,লোহার ফলা বিশিষ্ট কাঠের লাঙ্গল জোয়াল মই ও গরুর গাড়ী। চাষাবাদে অন্যতম উপকরণ হিসেবে কাঠের লাঙ্গল ছিল অপরিহার্য। একসময় কাঠের লাঙ্গল ছাড়া গ্রাম বাংলায় চাষাবাদে কথা চিন্তাই করা যেত না। আধুনিক যুগে পদাপূর্ণ করে চাষাবাদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে এখন যান্ত্রিক সব উপকরণ। ফলে আবিস্কারের প্রভাবে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী উপকরণ হালের জন্য লাঙ্গল জোয়াল মই বলদ এবং পরিবহনের ব্যবহৃত গরুর গাড়ী। পরিবারের ঐতিহ্যবাহী উপকরণ কোন রকমে টিকে থাকলেও সর্বত্র ঠাই করে নিয়েছে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর। এর ফলে মানুষ আগের তুলনার সময় শ্রম এবং অর্থ উভই সাশ্রয় হাতে আধুনিক আবিস্কারের দিকে ঝকছে। তবে যন্ত্রটির মুল্য সব কৃষকের সাধ্যের মধ্যে না থাকায় একক ভাবে অনেকেরেই কিনতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্র গুলো চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এক শ্রেণীর টাকাওয়ালারা মানুষ বাণ্যিজিক ভিত্তিতে পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর কিনে কৃষকদের মাঝে ভারা দিচ্ছে। ফলে জমিতে ভাড়ায় হাল দিয়ে অনেক কৃষক লাভবান হতে পারছে না। এমনই দুভোর্গা নেমে এসেছে যারা এক সময় গ্রাম গঞ্জের হাট বাজার গুলোতে লাঙ্গল বিক্রি করে জীবন এবং জীবিকা নির্বাহ করতো।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য