কোহলির রেকর্ড ভেঙে দিলেন ডি ককস্পোর্টস ডেস্কঃ মাটিতে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই সিরিজেই যুগপৎ হারের রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার নেই গত ১৪ বছর ধরে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারের পর ওয়ানডে সিরিজটাও যখন খোয়ানোর শঙ্কা প্রোটিয়াদের সামনে, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন কুইন্টন ডি কক আর হাশিম আমলা। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর সেঞ্চুরিয়নে তৃতীয় ওয়ানডেতে এই দুইয়ের ব্যাটে ৭ উইকেটের দারুণ এক জয় আশা বাঁচিয়ে রাখল।

প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড জো রুটের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে স্কোরবোর্ডে ৩১৮ তুলে ফেলার পর এই ম্যাচটা যে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতবে, তা হয়তো ভাবতেই পারেননি অনেকে। ম্যাচটা জিততে হলে সেঞ্চুরিয়নে লক্ষ্য তাড়া করার রেকর্ডটাও নিজেদের করতে হতো ডি ভিলিয়ার্সের দলকে। কিছুটা প্রতিকূল কন্ডিশনেই উইকেটের অসমান গতি আর বাউন্সের মধ্যে অপার দৃঢ়তা ও প্রত্যয়ের সঙ্গে ব্যাট করেই ম্যাচটা নিজেদের করে নিয়েছেন ডি কক আর আমলা। কঠিন কাজটা কী সহজেই না করেছেন। উদ্বোধনী জুটিতেই এসেছিল ২৩৯ রান!

উদ্বোধনীতে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। এক বছর আগেই রাইলি রুশোকে সঙ্গে নিয়ে হাশিম আমলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জোহানেসবার্গে তৈরি করেছিলেন সর্বোচ্চ ২৪৭ রানের যুগলবন্দী। ম্যাচে আমলার ব্যাট থেকে এসেছে ১৩০ বলে ১২৭ রান। ডি কক ১১৭ বলে ১৩৫ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংসটা খেলে দারুণ এক রেকর্ডেরও মালিক হয়েছেন। সবচেয়ে কম বয়সে ১০টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করার তালিকায় তিনি পেছনে ফেলেছেন বিরাট কোহলিকে। ২৩ বছর ৫৪ দিন বয়সে, ক্যারিয়ারের ৫৫তম ওয়ানডে ম্যাচে এসে তিনি গড়লেন এই দারুণ কীর্তি। কোহলি দশম সেঞ্চুরি করেছিলেন ২৩ বছর ১৫৯ দিন বয়সে। কোহলির খেলতেও হয়েছিল ৮৩টি ম্যাচ।

মাঝখানে ছোট্ট একটা সময় বাদে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ডি কক অবিশ্বাস্য ধারাবাহিক। টানা তিন ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করার বিশ্ব রেকর্ডে জহির আব্বাস-সাঈদ আনোয়ার, গিবস-ডি ভিলিয়ার্সদের পাশে নাম লিখিয়েছিলেন; যে রেকর্ড পরে গত বিশ্বকাপে চার ম্যাচে নিয়ে গেছেন কুমার সাঙ্গাকারা। কোহলি নাকি এক সময় ওয়ানডের সব রেকর্ড টেন্ডুলকারের কাছ থেকে নিজের করে নেবেন। আমলা আর ডি কক কিন্তু ভালোই ধাওয়া করছেন তাঁকে।

ইংলিশদের ৩১৮ রানের ইনিংসে রুটের ১২৫ রানের পাশাপাশি অ্যালেক্স হেলসের ৬৫ আর বেন স্টোকসের ৫৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এই ত্রয়ীর বাইরে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জেসন রয়ের ২০ ছাড়া বলার মতো কোনো স্কোরই নেই। তবে স্কোর বোর্ডে যা জমা হয়েছিল, তাতেই হয়তো তৃপ্ত ছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক এউইন মরগ্যান। কিন্তু কে জানত, কাল এভাবে নিরেট দেয়াল হয়ে দেখা দেবেন ডিড কক আর আমলা! মাঠের রেকর্ড রান করে তাড়া করার কাজটা উদ্বোধনী জুটিতে প্রায় সেরেই ফেলতে বসেছিলেন দুজনে। সেটি শেষ পর্যন্ত না হলেও ম্যাচটি কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ২২ বল বাকি রেখে।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুটিতে হেরে কোণঠাসা হয়ে পড়া, এরপর রেকর্ড রান তাড়া করার চ্যালেঞ্জটা সামলেই ম্যাচ জেতা। শেষ দুই ম্যাচেও তা বাড়তি আত্মবিশ্বাস প্রোটিয়াদের জোগাবে নিশ্চয়ই! সূত্র: এএফপি।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য