৬৫ হাজার ডায়াবেটিক রোগীকে জিম্মি করে ১৩জন চিকিৎসকের অযৌক্তিক কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার আহ্বাননিজস্ব প্রতিনিধিঃ ৬৫ হাজার রেজিষ্ট্রার্ড ডায়াবেটিক রোগীসহ নন ডায়াবেটিক অসংখ্য রোগীকে জিম্মি করে ১৩ জন চিকিৎসকের অযৌক্তিক, অন্যায় ও গ্রহণযোগ্যহীন অবিরাম কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন দিনাজপুর জেলা ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন।

বুধবার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুর জেলা ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সফিকুল হক ছুটু এক লিখিত বক্তব্যে ধর্মঘটী ১৩জন চিকিৎসকের প্রতি এই আহ্বান জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কর্মরত চিকিৎসকদের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন ও চাকুরীনীতিমালার ব্যাপারে ২২ জানুয়ারী ৩ ঘন্টার দীর্ঘ আলোচনায় সব দিক নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

চিকিৎসকদের দাবীর প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা ও সামর্থ অনুযায়ী জুন পর্যন্ত ১৩ জন চিকিৎসকের বেতন খাতে ৮২ হাজার ৫৩০ টাকা বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৩জন চিকিৎসক প্রতি মাসে ৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৯৫১ টাকা বেতন গ্রহণ করতেন। এর মধ্যে ১জন সিনিয়র চিকিৎসককে মাসে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ১৬৯ টাকা, ২ জন জুনিয়র চিকিৎসককে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা বেতন দেয়া হতো। ৩ জন চিকিৎসক ১ লাখ টাকার বেশি ও অপর ৩ জন চিকিৎসক ৫০ হাজার টাকার বেশি বেতন নিতেন।

সাধারণ সম্পাদক ছুটু বলেন, ৬৫ হাজার রেজিষ্ট্রার্ড ডায়াবেটিক রোগী ও অসংখ্য নন ডায়াবেটিক রোগীকে জিম্মি করে কোন ধরনের আগাম ঘোষনা ছাড়াই চিকিৎসকেরা অন্যায় ও অযৌক্তিক কর্মবিরতি শুরু করেছেন। রোগীদের জিম্মি করে এই কর্মবিরতি নৈতিকতা বিবর্জিত। এই অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য ধর্মঘট মেনে নেয়া যায় না। চিকিৎসকেরা তাদের প্রাইভেট প্রাকটিস উন্মুক্ত করনের যে অনৈতিক দাবী করেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। নিজেদের স্বার্থের জন্য সান্ধ্যকালীন, শুক্রবার ও সরকারী ছুটির দিনে ডায়াবেটিক হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। যা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। রোগীদের স্বার্থ বিবেচনা করে ছুটির দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২ জন অতিরিক্ত চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। এখানেও ধর্মঘটী চিকিৎসকেরা বাধা দিচ্ছেন।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০০৭ সালে ডায়াবেটিক সমিতি ঢাকার উদ্যোগে নেদারল্যান্ড সরকার প্রদত্ত অনুদান ও ব্যাংক কনসোটিয়াম প্রদত্ত ৫ কোটি ২১ লক্ষ টাকার ঋণ গ্রহণ করে দিনাজপুর ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন। ২০০৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০১২ সালের জুন মাসে শেষ হয়। বর্তমানে ঋণের বিপরীতে অর্থের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৮ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। ইতোমধ্যে ঋণ বাবদ ১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ছুটু বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের ৩ মাসের মাথায় হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৪ মাসের বকেয়া বেতন বাবদ ১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য দেনা বাবদ আরো ৯০ লক্ষ টাকা শোধ করেছে। ১০ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে এক্সরে মেশিনসহ সিআর মেশিন। ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে নতুন মেশিন। অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা। পুরো হাসপাতালকে ডিজিটালাইজড করণের উদ্দেশ্যে সফটওয়্যার সংযোজনের কাজ চলছে। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে ধর্মঘটী ১৩ জন চিকিৎসককে কাজে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুর জেলা ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাঃ আব্দুল লতিফ, যুগ্ম সম্পাদক সুজাউর রব চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ লুৎফর রহমান মিন্টু এবং নির্বাহী সদস্য এ্যাডঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী, জিপি ওয়াহেদ আলী নবেল, ফরিদুল ইসলাম, ডাঃ বি কে বোস, আলহাজ্ব জবেদ আলী, মকছেদ আলী মঙ্গলিয়া, রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী শামীম, আবু বকর সিদ্দিক, এ্যাডঃ সফিকুল ইসলাম, রাহবার কবির পিয়াল ও সাঈদ রিয়াজ পিম উপস্থিত ছিলেন।

বার্তা প্রেরকঃ রতন সিং, দিনাজপুর।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য