ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ১৬ চুক্তি-সমঝোতা সই, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যআন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ১৬টি চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের তিন দিনের ভারত সফরের প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতাগুলো সই হয়েছে। রোববার চণ্ডীগড়ে ইন্দো-ফ্রান্স বিজনেস সামিট-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি-সমঝোতা সই হয়।

ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মধ্যে রয়েছে- ভারতের মাহিন্দ্রা গোষ্ঠী এবং ফরাসী এয়ারবাস সংস্থার মধ্যে হেলিকপ্টার তৈরি। এছাড়া স্মার্ট সিটি প্রকল্প নিয়ে তিনটি সমঝোতা, নগর উন্নয়ন, নাগরিক পরিবহন, পানি ও বর্জ্য ম্যানেজমেন্ট এবং সৌরশক্তি প্রসঙ্গে পারস্পারিক সহযোগিতার উপর জোর দিয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি। মাহিন্দ্রা গোষ্ঠী এবং ফরাসী এয়ারবাস সংস্থার মধ্যে চুক্তিটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ (সোমবার) বিকেলে হরিয়ানার গুরগাঁওতে ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (আইএসএ) মুখ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর এবং এর অন্তর্বর্তীকালীন সচিবালয়ের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ।

ভারতের নবীন ও নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স কর্কট রেখা এবং মকর রেখার মধ্যভাগে পূর্ণত বা অংশত অবস্থিত ১২১ টি সৌরশক্তি সমৃদ্ধ দেশের মধ্যে সহযোগিতার এক বিশিষ্ট মঞ্চ। এটি আইএসএ-র সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সৌরশক্তি এবং সৌরশক্তির প্রয়োগের ব্যাপারে সাফল্য ও ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবদান রাখবে।

ইন্দো-ফ্রান্স বিজনেস সামিট-এ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ওঁলাদ সন্ত্রাসবাদের বিপদ মোকাবিলা করার জন্য পরস্পরের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে আদান-প্রদান হার বাড়ানো এবং সামরিক দক্ষতা বাড়ানোর উপরে জোর দেন। গত বছর প্যারিসে সফল জলবায়ু সম্মেলনের কথা তুলে ধরে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করা হবে বলেও জানান ওঁলাদ।

প্রধানমন্ত্রী মোদি প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘ভারত এবং ফ্রান্স মানবতায় বিশ্বাস রাখে। যারা মানবতায় ভরসা করে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’

এদিন, ভারত-ও ফ্রান্সের মধ্যে ১৬টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি-সমঝোতা সই হলেও বহুল আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধ বিমান ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ের এখনো বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। একটি  সূত্রে প্রকাশ, ওই রাফায়েল বিমানের অন্তত ৩০ শতাংশ ভারতের মাটিতে তৈরি করতে হবে নয়াদিল্লির এমন শর্ত নিয়ে ঐক্যমত্যে না পৌঁছানোর জেরে এই চুক্তি বাস্তবায়ন হতে বিলম্ব হচ্ছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য