তেঁতুলিয়ায় এ সপ্তাহে বছরের সবচেয়ে শীততেঁতুলিয়ায় এবছরে শীত ঋতুর মাঘ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সবচেয়ে শীত নেমেছে। এবছর পুরো পৌষ মাসে তেমন শীত অনুভুত না হলেও মাঘ মাসের শুরু থেকে শীতের প্রকৌপ বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত দুদিন ধরে উত্তর-পশ্চিমের কনকনে হিমেল বাতাসের সংগে ঘন কুয়াশার চাদরে   পথঘাট ঢাকা পড়েছে। নতুন বছরের শুরুর তৃতীয় সপ্তাহে আরেক দফা তীব্র শীত যেনো এবারের সবচেয়ে বেশি শীত বলে প্রবীনরা মনে করছে। গতকাল শনিবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারাদিন তেঁতুলিয়ার কোথাও সূর্য্যের মুখ দেখা যায়নি।

তীব্র শীতের কারণে অফিস আদালত ও হাট-বাজারে জনসাধারণের উপস্থিতি ছিলো কম। তীব্র ঠান্ডার দরুণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিলো খুব কম। তীব্র শীতের কারণে দু’একটা ক্লাসের পর তাদের বিদ্যালয় থেকে দল বেঁধে চলে যেতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, এবছরের সর্বোচ্চ শীত গত দুদিন ধরে অনুভুত হওয়ায় শ্রেণি কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীরা বসে থাকতে পারছে না; বাধ্য হয়ে দু’একটা ক্লাসের পর ছুটি দেয়া হয়েছে।

এদিকে মহানন্দা নদীর হাজার হাজার পাথর শ্রমিকের জীবন জীবিকা থমকে গেছে। ঠান্ডা বারার সংগে সংগে পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে ছিন্নমূল মানুষের ভিড় বেড়েছে। অনেক স্থানে ছিন্নমুল জনসাধারণকে খর-খুটা জ্বালিয়ে আগুন পোহায়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। এদিকে সরকারিভাবে উপজেলার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে এখনো পর্যন্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি।

শীতের প্রকৌপ বৃদ্ধিতে শিশু-কিশোরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া আবাল-বৃদ্ধ বনিতারাও সর্দি কাশি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। কিন্তু হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ঔষধ পত্রাদি না পাওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মন্ডল জানান- উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে দুই হাজার পাঁচশত পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বাড়তি শীত বস্ত্র চেয়ে জেলাপ্রশাসক বরাবরে চাহিদা দেয়া হয়েছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য