Kurigram2 mapসার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার দাবি জোড়ালো হচ্ছে। এটি বাস্তবে রূপ নিলে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের অর্থনৈতিক অগ্রগতির দুয়ার খুলে যাবে। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম জেলায় উন্মোচিত হবে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার। কমবে দারিদ্রতার হার। বাড়বে কর্মসংস্থান। বিকাশ ঘটবে সুষম অর্থনীতির।

সুত্রমতে, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকার সারাদেশের সুষম উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের আশা-আকাঙ্খার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। সম্প্রতি কুড়িগ্রামে স্থানীয় আওয়ামীলীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্র“তি দেন। এর কয়েকদিন পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নে ঘোষণা আসে।

ওই ঘোষণায় বৃহত্তর রংপুর বিভাগের একটিও নাম না থাকায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা ও বাস্তবায়নে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র লেখেন, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সাংসদ এ,কে,এম মাঈদুল ইসলাম। এর পেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যানকে অবহিত করে। এদিকে জনপ্রতিনিধি ও বিশেজ্ঞরা বলছেন, চিলমারীতে অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হলে চিলমারী নদী বন্দর ফের সচল হয়ে উঠবে। রাজধানীর সাথে যোগাযোগ ও ব্যবসায়ীক সম্পৃক্ততা আরও দৃঢ় হবে। উদ্যোক্তারা অবহেলিত এ অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবেন।

অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন চিলমারী একটি উপযুক্ত এলাকা। সুত্রমতে, ১৪৪৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দের দিকে চিলমারীতে তৈরি হয়েছিল বড় বড় নৌ-যুদ্ধ জাহাজ। যা ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চলমান ছিল। চিলমারীকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করলে পুরনো ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটবে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে।

এ বিষয়ে শরিফুল ইসলাম খান, কর্মসূচী সমন্বয়কারী আরডিআরএস বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম ইউনিট বলেন, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট দরিদ্রতম জেলা। এ অঞ্চলের দারিদ্রতা দূরীকরণে অর্থনৈতিক অঞ্চল করা প্রয়োজন। এতে করে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যান্নয়ন ঘটবে।
জানাগেছে, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের হাজার হাজার যুবক-যুবতি, নারী-পুরুষ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়েছে। চিলমারী অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে এখানে গড়ে উঠা শিল্পকারখানায় তারা ঢাকা, চট্টগ্রামের চেয়েও কমপারিশ্রমিকে কাজ করে খেতে পারবে। তারা একটি মানবিক জীবন ফিরে পাবে। এতে করে গার্মেন্টস শিল্প উদ্যোক্তরাও অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয় লাভ করবে।

চিলমারীতে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সাংসদ এ,কে,এম মাঈদুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী বলেন, চিলমারী অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য একটি উপযুক্ত স্থান। এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হলে দেশের সার্বিক অর্থনৈকিত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এখানকার দক্ষ শ্রমিকরা তাদের উপযুক্ত কর্মস্থানের জায়গায় পাবে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য