ফুলবাড়ী উপজেলার ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ২৩টিতে নাই বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানি সরবরাহফুলবাড়ী, (দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক এর মধ্যে ২৩টিতে নাই বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ ও পানি না থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছে প্রত্যান্ত অঞ্চলে প্রসুতি মায়েরা। কমিউনিটি ক্লিনিকে নরমাল সন্তান প্রসবের প্রশিক্ষিত সেবিকা থাকলেও তারাও কোনো কাজে আসছেনা।

উপজেলার বেতদিঘী ইউনিয়নের নন্দিগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিক এ গিয়ে দেখা যায় কমিউনিটি ক্লিনিক এর ৫০ গজ দুরে পল্লীবিদ্যুৎ এর সংযোগ আছে নন্দিগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।  কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিকে নাই বিদ্যুৎ সংযোগ। কমিউনিটি ক্লিনিক এর কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার ফ্যাসিলেটোর রিক্তা পারভীন জানায় তিনি  প্রসুতি মায়েদের নরমাল বাচ্চা প্রসবের প্রশিক্ষন দিয়ে আসছেন। কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিক এ পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় ক্লিনিকে বসে সে সেবা ওই এলাকার প্রসুতি মায়েদের দিতে পারছেন না। তিনি বলেন গত ১৩/১০/২০১৫ইং তারিখে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নিকট আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত তার সাড়া মেলে নাই। একই অবস্থা দৌলতপুর ইউনিয়নের জানিপুর কমিউনিটি ক্লিনিকসহ উপজেলার প্রতিটি ক্লিনিকের অবস্থা ।

উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্র সুত্রে জানা গেছে উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। তার মধ্যে মাত্র শিবনগর ও চিন্তামন ছাড়া বাঁকী কোনো ক্লিনিকেই বিদ্যুৎ সংযোগ নাই। ফলে প্রসুতি মায়েদের ক্লিনিকে রেখে নিরাপদ বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা করতে পারছেনা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো।

এদিকে একাধিক ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ক্লিনিকে না গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। তার মধ্যে নন্দিগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিক এর দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাক্তার সুইটি বেগম দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে । সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে মাঝে মধ্যে এসে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেন জানিপুর কমিউনিটি ক্লিনিক এর চিকিৎসক ডাঃ ফাতেমা।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফজলুর রহমান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৯টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেখানে আছে মাত্র ৩জন। এছাড়া ৭টি ইউনিয়নে  উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৭জন স্বাস্থ্য  কর্মকর্তা  ও ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ২৫ জন উপ-স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত আছেন ২ জন স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ও ৫জন উপস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। ফলে অধিকাংশ স্থানে চিকিৎসকের পদ শুন্য থাকায় এই সকল কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে একাধিক স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন ১জন স্বাস্থ্য ও উপস্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণেরা । ফলে কাঙ্খিত সেবা দেয়া যাচ্ছেনা।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য