বুড়িমারী স্থলবন্দরলালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা আমদানীর নামে চোরাচালান, পরিবহন সেক্টরে সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি, শ্রমিক মজুরির প্রতারণাসহ বন্দরের সকল সেক্টরে লাগামহীন দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মঙ্গলবারের মাসিক সভায় আবারো তোলপাড় হয়েছে।

দুর্নীতি বন্ধে প্রতিমাসে জেলার সর্বোচ্চ ফোরামে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নেয়ার পরেও এসব অনিয়ম-দূর্নীতি লাগামহীনভাবে চলতে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে বুড়িমারী স্থলবন্দরটি দেশের অভ্যন্তরে অথবা সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে কিনা।

মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত সভাটি জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে শুরু হলে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা কালে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়া ছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ দেয়া হয়।

সভার কার্যতালিকা অনুযায়ী বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানীকৃত পণ্যের গাড়িতে অবৈধভাবে আনা শত শত বস্তায় বিভিন্ন ধরনের ফল নামিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্য পাচার, বন্দর থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিটি গাড়ি থেকে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা করে চাঁদাবাজি বন্ধে গত সভার সিদ্ধাস্ত অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার কোন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি বলে সভাকে অবহিত করা হয়। স

ভায় উপস্থিত জেলার প্রবীন সাংবাদিক গোকুল রায় এরই সুত্র ধরে প্রশ্ন করেন, জেলার সর্বোচ্চ ফোরামে বুড়িমারী স্থলবন্দরে সকল অনিয়ম বন্ধে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরেও জানতে চান, দূর্নীতিতে আচ্ছন্ন থাকা বুড়িমারী স্থলবন্দরটি আদৌ কি দেশের অভ্যন্তরে, নাকি এটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনের বাইরে ?

প্রায় ৩ ঘন্টার বেশী স্থায়ী সভায় স্থলবন্দরের যাবতীয় অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে মেজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, পুলিশ এবং যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবী জাানানো হয়। সভায় পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক ও জেলার  সুশিলসমাজ ছাড়াও বিভিন্ন অফিসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য