জিম্বাবুয়ে কোনো ব্যাপার না হলোও খেলাটা কিন্তু টি–টোয়েন্টিএটা একরকম নিয়মই হয়ে গেছে। জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশ সফরে আসবে আর একের পর এক ম্যাচ হারবে। জিম্বাবুয়ের কাছে বাংলাদেশ এখন এক অজেয় শক্তি। আবার এসেছে জিম্বাবুয়ে, আবারও নিশ্চয়ই হারবে। মাত্রই আফগানিস্তানের কাছে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে যে দল, সেটি কি আর বাংলাদেশের কাছে পাত্তা পাবে?

এভাবে ভাবাটা বোধহয় আত্মঘাতীই হবে। ভুলে যাচ্ছেন কেন, খেলাটা টি-টোয়েন্টি। দুই দলের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে কিন্তু বাংলাদেশই হেরেছিল।

মাশরাফি বিন মুর্তজার তা খুব ভালো মনে আছে। আজ খুলনায় সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘আমরা সর্বশেষ সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরেছিলাম। আমরা এদিকে খুব মনোযোগী।’ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার পর প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি বাংলাদেশই জিতেছিল। কিন্তু পরেরটি হেরে যাওয়ায় সিরিজ ড্র হয়েছিল ১-১ ম্যাচে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের নাকানিচুবানি খাওয়াটা মাথায় রেখেও দলটির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আছে মাশরাফির। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাফল্য পেতে যে ভালো খেলতে হবে, সেটাই আজ সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘আফগানিস্তানের কাছে তারা হেরেছে ঠিকই, কিন্তু ওদের কিন্তু হারাতে হবে খেলেই। দলটিতে বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে। ওদের ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।’

ইতিবাচক ক্রিকেটকেই তাই মূলমন্ত্র মানছেন মাশরাফি, ‘আমাদের কাজ হচ্ছে হচ্ছে, পরিকল্পনাগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করা। পুরো সিরিজেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার দিকেই আমাদের মনোযোগ থাকবে।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজ নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ—এটা মানেন মাশরাফি। দলের সমন্বয় ঠিক করতেও এই সিরিজকে কাজে লাগানোর কথা আগের দিনই বলেছেন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তবে সেটা মাথায় রেখেও আসল লক্ষ্যের কথা স্পষ্টই জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘যেকোনো খেলায় জয়টাই প্রাধান্য পাবে আগে। এই ফরম্যাটে অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের। কিছু জায়গায় আমরা চেষ্টা করছি কম্বিনেশনটা ঠিক রেখে কিছু করার।

তবে জয়ের বাইরে অবশ্যই অন্য কোনো ভাবনা নেই আমাদের। এশিয়া কাপ খুব বড় প্রতিযোগিতা। এরপর আছে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপেও আমাদের কোয়ালিফাই করতে হবে। এটাই নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সেরা সুযোগ।’

২৪ ফেব্রুয়ারি এশিয়া কাপ শুরু হবে বাংলাদেশেই। মার্চে ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশকে বাছাইপর্বে খেলতে হবে আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে। বড় দুটি টুর্নামেন্টের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচের সিরিজটি তাই মাশরাফিদের জন্য আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি ভরে নেওয়ায় সুযোগ।
কী হবে সিরিজের ফল? ৪-০? এই যে আবার ভুলে যাচ্ছেন, খেলাটা কিন্তু টি-টোয়েন্টি! সংগ্রহিতঃ প্রথম আলো
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য