প্রতিইঞ্চি মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কৃষক জহুরুলসাখাওয়ত হোসেন সাখা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ সুষ্ঠু পরিকল্পনা, ইচ্ছাশক্তি আর শ্রম দিলে যেকোনো খামার বা প্রকল্প লাভজনক প্রতিষ্ঠানে গড়ে তোলা সম্ভব- সেটাই প্রমাণ করেছেন জহুরুল ইসলাম (৪৫) নামের এক কৃষক। নিজের সীমিত জমির প্রতিইঞ্চি মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নিজে লাভবান হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গড়ে তোলার পথ দেখাচ্ছেন তিনি অন্য কৃষকদের। এলাকায় তিনি একজন সফল সবজি চাষি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

রৌমারী উপজেলার টালুয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম। ১০ বছর বিদেশ খাটার পর তিন বছর আগে দেশে ফিরেই নেমে পড়েন সবজি চাষে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রথমবারই লাভের মুখ দেখেন তিনি। এরপর একটু বেশি পরিসরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেন। এতেই বাজিমাত করেন তিনি। ঘরে তিন ছেলে-মেয়েকে স্কুলে পড়াচ্ছেন। সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। প্রতিবছরই অন্যের জমি বন্ধক নিচ্ছেন জহুরুল ইসলাম।

সরেজমিনে জহুরুল ইসলামের এক একর জমিতে গড়ে তোলা বিভিন্ন জাতের সবজির বাগান। এক লাউ বিক্রি করেই লাখ টাকা আয় করেন। প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেন। একইভাবে বেগুন, কাঁচা মরিচ, টমেটো, গাজর, রসুন, বাটিশাক ও স্কয়াস পৃথকভাবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করেন। তাঁর বাগানের সব সবজিই বেশ সুস্বাদু। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৭১ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করা হয়েছে। আরো ৩৫ হাজার টাকার লাউ বেচা যাবে। একই সঙ্গে ২৫ হাজার টাকার কাঁচা মরিচ, ১৫ হাজার টাকার বাটিশাক, ২০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করা হয়ে গেছে।

জহুরুল ইসলাম জানান, বেগুন ক্ষেতে ধনিয়া আর স্কয়াস সবজি লাগানো হয়েছে। বেগুন আসার সঙ্গে সঙ্গে ধনিয়া আর স্কয়াস তুলে ফেলা হয়। অপরদিকে, এক সঙ্গে কচু, গাজর, বেগুন এবং মরিচ লাগানো হয়েছে। যখন যে সবজির সময় হয় তা তুলে অন্য সবজিকে জায়গা করে দেওয়া হয়। যেমন লাউয়ের মাচার নিচে বেগুনের চারা দেওয়া হয়েছে। লাউগাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেগুনের চারা তোলা হয়। এবার কেবল পাঁচ হাজার টাকার লাউ শাকই বিক্রি করা হয়েছে। আরেক স্থানে দুই ধরনের কচু ও লতিরাজ লাগানো হয়েছে। এভাবে জমির প্রতিইঞ্চি মাটির ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাড়িতে দুধেল গাভি ও ছাগলও পালন করেন তিনি।

জহুরুল ইসলাম বলেন, “আগে বুঝি নাই। মানুষ এমনি বিদেশে যাবার পারাপারি করে। বিদেশে না গিয়ে বাড়িতে বসেই টাকা রোজগার করা যায়। আমি বিদেশ থেকে বাড়িতে ফিরে তিন বছরে প্রায় ছয় লাখ টাকার জমি বন্ধক রেখেছি। বন্ধকি জমিসহ এক একর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। আমার ঘরে কোনো অভাব নেই।”

টালুয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিল উদ্দিন, আব্দুর রশীদ এবং আব্দুল বাতেন জানান, জহুরুলের সবজি চাষ দেখে অনেকেই এখন বিভিন্ন সবজি চাষে নেমেছেন। পরিকল্পনা মাফিক পরিশ্রম করলে যেকোনো স্থান থেকেই লাভবান হওয়া যায় এলাকার মানুষ তা বুঝতে পেরেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, “উপজেলার একজন সফল সবজি চাষি জহুরুল ইসলাম। আমাদের কৃষি বিভাগ জহুরুল ইসলামকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করেছে। তা ছাড়া সীমিত সম্পদ ও কৃষিপ্রধান এই দেশে কৃষির উন্নয়নে প্রতিইঞ্চি মাটির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই, যা করে লাভবান হয়েছেন জহুরুল ইসলাম।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য