তিস্তার পাড় ঘিরে সরকারের নানামুখী কৌশলডেক্স রিপোর্টঃ নীলফামারী থেকে আব্দুর রাজ্জাক : নীলফামারীতে তিস্তার বুকে জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। আর তিস্তার বুকে এখন সবুজের সমারোহ। এমনি কারনে পানিশূন্য তিস্তাপাড়ে চলছে কৃষকের আহাজারি। অকার্যকর হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প তিস্তা সেচ প্রকল্প। চলতি খরিপ মৌসুমে সেচ সুবিধা পাওয়া না পাওয়াকে ঘিরে ক্ষোভ দানা বাধছে তিস্তাপাড়ের লক্ষ লক্ষ কৃষকের মাঝে। এ ক্ষোভ প্রশমিত করতে নানান আশার বানী শোনানো শুরু হয়েছে সরকারের উচ্চ মহল থেকে।

তিস্তার সেচকে ঘিরে ইতিমধ্যে তিস্তা পাড়ে শুরু হয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যাক্তিদের আনাগোনা। সরকারের সব কিছুই যে শুধুই আশ্বাস আর প্রলোভন তা বুঝতে পেরেছে তিস্তা অববাহিকার অধিবাসীরা। সরকারের ছত্রছায়ায় তাদেররই নেতা কর্মীরা তিস্তার পাথর, বালি উত্তোলন করার ফলে তিস্তার অবস্থা আজ মৃত। ধ্বংস হয়েছে তিস্তাপাড়ের জীব বৈচিত্র আর পরিবেশ।

এছাড়া সরকারের ভারততোষন নতজানু পররাষ্টনীতির কারনে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তিস্তা। শক্তিশালী পররাষ্টনীতি আর দেশপ্রেমের অভাবে তিস্তা আজ পড়ন্ত বেলায় এসে পড়েছে। এ জানুয়ারীতে তিস্তায় পানি প্রবাহ এসে ঠেকেছে শুন্যর কোঠায়। বর্তমানে তিস্তায় কোন পানি প্রবাহ নেই। ব্যারেজের উজানে ও ভাটিতে কয়েকটি খালে রয়েছে সামান্য পানি। তবুও সরকারের পদলেহী এক শ্রেণীর প্রচার যন্ত্র পানি শূন্য তিস্তায় পানি প্রবাহ আবিস্কার করে প্রচার করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েচে।

প্রশ্ন উঠেছে এসব প্রচারের পিছনে কি উদ্দেশ্য আর কার স্বার্থ এতে রক্ষা করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার দোয়ানীতে নির্মিত তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলে কৃষিজমিতে যে সেচ দেওয়ার কথা, অকার্যকর অবস্থায় পড়েছে। এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে কৃষি, মাছ, পরিবেশ ও নৌ যোগাযোগ ক্ষেত্রে। প্রকৃতি ক্রমাগত ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে।

শীতের শুরুতেই খরস্রোত তিস্তা ধূ-ধূ বালু চরে পরিনত হয়েছে। পানি শুন্য তিস্তায় মাছ ধরতে না পেরে জেলেরা পড়েছেন নিদারুন কষ্টে। তিস্তার এ বৈরী আচরনে অনেক জেলে পরিবার তাদের বাপ দাদার পেশা ছেড়ে জীবন জীবিকার তাগিদে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। দেশের ৫টি জেলার অর্ধলাখ জেলে পরিবার নিদারুন অন্নাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তিস্তার বুক জুড়ে জেগে উঠা ধু-ধু বালু চরে লাগানো বিভিন্ন সবজি প্রয়োজনীয় সেচের অভাবে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। তিস্তা নদীতে মাছ আহরন করে শুটকি বিক্রি করে জীবন যাপন করত এ অঞ্চলের জেলেরা। তারাও আজ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিস্তা শুকিয়ে যাওয়ায় তিস্তা পাড়ের মাঝি-মাল্লারাও কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এমনি নানা কারনে প্রকৃতি হারাচ্ছে তার আপন সৌন্দর্য। এমনকি তিস্তা চরে না ধারণে সবজি আবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষকরা। ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হতে উৎপন্ন ঐতিহাসিক এ খরস্রোতা নদী তিস্তা। যা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রক্ষপুত্র নদের সাথে মিশে যায়।

এর মোট দৈর্ঘ প্রায় ৩১৫কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫কিলোমিটার। তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে ভারত সরকার একতরফা ভাবে তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রন করায় বর্ষা শেষ হতে না হতেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরা খালে পরিনত হয়েছে। ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার ১২৫কিলোমিটার তিস্তার অববাহিকায় জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্র ধ্বংস হয়ে গেছে।

দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ আজ মৃত প্রায়। তিস্তা নদীর উপর নির্মিত তিস্তা রেল সেতু, তিস্তা সড়ক সেতু ও নির্মানাধীন দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু যেন প্রহসন মুলক ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধু-ধু বালু চরের তিস্তার উপর। ব্রীজ থাকলেও পায়ে হেটেই পাড় হচ্ছে অনেকেই। প্রবাহহীন তিস্তার বুকজুড়ে রয়েছে শুধু বালুরাশি আর মরীচিকা। তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষের দাবী, যে করেই হোক তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা তাদের চাই। তিস্তা পাড়ের সকল মানুষের প্রানের দাবি তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিস্তা ব্যারাজের একাধিক প্রকৌশলী জানান, বর্তমানে তিস্তায় কি পরিমান পানি আছে তা বলা যাবে না। তবে যে পরিমান পানি আছে তা দিয়ে সেচ প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী জেলায় সেচ দেয়া কষ্টকর হবে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য