ছবিঃ রফিক প্লাবন, দিনাজপুর।

ছবিঃ রফিক প্লাবন, দিনাজপুর।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ পৌষের হাড় কাঁপানো শীত আর  ঘন কুয়াশায় গভীর রাত পর্যন্ত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দিনাজপুর পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার প্রচারনা গতকাল রোববার শেষ করলেন। এবার দিনাজপুর পৌরসভায় সেয়ানে সেয়ানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে। কারও থেকে কেউ কম নয়।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম নৌকা ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের ধানের শীষের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতাফ উদ্দীনের নারিকেল গাছ মার্কা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দিতায় অবস্থান করে নিয়েছে। জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী আব্দুল মোতালেব লাঙ্গল মার্কা  ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ফয়সাল হাবীব সুমন মোবাইল ফোন মার্কা প্রতিদ্বন্দিতা থেকে পিছিয়ে পড়েছে। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরদের মধ্যেও তীব্র প্রতিদ্বন্দিতা হবে। ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্র“তি এবং আপদে বিপদে কাছে থাকার অঙ্গিকার দিয়ে শেষ করেছেন প্রচারনা। সর্বত্রই এখন চলছে হিসাব নিকেশ। শেষ হাসি কে হাসবে। তা দেখার অপেক্ষায় দিনাজপুরবাসী। এছাড়া দলীয় প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। দিনাজপুর পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ জন এবং ১২টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৯ জন প্রার্থী মিলে ৭৯ প্রার্থী রয়েছে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিগত পাঁচ বছরে দিনাজপুর পৌরসভার তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। শহরের বেশিরভাগ রাস্তা যান-বাহন চলাচলের উপযোগী নয়। রাস্তার উন্নয়ন, শিশুপার্কের উন্নয়নসহ পৌরসভায় অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল যা বিগত ৫ বছরে হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধান করবো।

পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিগত ৫ বছর যাবৎ আমি এ দায়িত্ব পালিন করেছি। পৌরবাসি আমাকে ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করলে আমার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জিতবো ইনশাআল¬াহ। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না এ ব্যাপারে আমি শঙ্কায় রয়েছি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পৌরসভার ৩ বারের কাউন্সিলর এবং ২ বারের প্যানেল মেয়র মো. আলতাফ উদ্দীন বলেন, পৌরসভা হলো জনগণের। পৌর পরিষদ দল নিরপেক্ষ ব্যক্তির নেতৃত্বে থাকা উচিত, যাতে সব দলের মানুষ এখানে নির্বিঘেœ যেতে পারেন। এ কারনে তিনি পৌরবাসীকে দল নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে মেয়র পদে নির্বাচিত করার আহবান জানান।

সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মাহমুদ হাসান জানান, ভোটের দিন মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, র‌্যাব, ও বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। ভোট কেন্দ্রের জন্য আলাদা আইন শৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োজিত থাকবে। সাধারণ ভোট কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের ১৯ জন সদস্য ও ঝুঁিকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন ২০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবে। দিনাজপুর পৌরসভা ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে প্রাচীনতম ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। যার আয়তন ২৪ দশমিক ২০ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে পৌর এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯০ জন। পুরুষের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশী। পুরুষ ভোটার ৫৭ হাজার ৯৩ জন ও মহিলা ভোটার ৫৯ হাজার ৬৯৭ জন এবং ভোট কেন্দ্র ৪৯টি।

 

সতর্কবার্তাঃ-
উক্ত বিষয়ে রিপোর্টটির কোন অংশ সংযোজন, বিয়োজন, সংশোধন, পরিবর্তন করে ব্যবহার বা অনুমতি ব্যতিত এর কোন কন্টেন্ট ব্যবহার আইনগত অপরাধ যে কোন ধরনের কপি-পেষ্ট কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে বিচার যোগ্য তবে রিপোর্টি ফেসবুকে সেয়ার করতে কোন বাধা নেই । সংবাদাতাঃ শাহারিয়ার হিরু, দিনাজপুর।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য