কুড়িগ্রামে নিখোঁজ স্কুল খুনিদের বিচারের দাবীতে মানববন্ধনস্কুল ছাত্র আলিফ আহম্মেদ স্বপ্ন’র খুনিদের বিচারের দাবীতে রোববার কুড়িগ্রাম শহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে এলাকাবাসী। এলাকার নারী, শিশুসহ কয়েকশ মানুষ সকালে কুড়িগ্রাম শহীদ মিনার এলাকার এক ঘন্টার মানববন্ধন শেষে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করে।

গত বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুলের ছাত্র আলিফ আহম্মেদ স্বপ্ন (১৪) নিখোঁজ হওয়ার ৪র্থ দিনে তার গলিত লাশ শহরের ভেলাকোপা এলাকার হানাগড় পাড়ার একটি বাসার ল্যাট্রিনের সেপটি ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। স্বপ্ন কুড়িগ্রাম শহরের ব্যবসায়ী সুলতান আহম্মেদের একমাত্র পুত্র। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ বাসার মালিক কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোর্শেদা বেগম ও  রিফাতসহ ৩ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, শহরের সরদার পাড়ার খাদ্য ব্যবসায়ী সুলতান আহম্মেদের ছেলে আলিফ সোমবার (২১/১২/১৫) সকালে তাদের ফ্লাট থেকে বন্ধু রিফাতের সাথে কথা বলতে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আর ফেরেনি। বৃহস্পতিবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোর্শেদা বেগম ও পুত্র রিফাতকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বন্ধু আকাশের সহায়তায় স্বপ্নকে খুনের ঘটনা স্বীকার করে রিফাত। তার দেয়া তথ্যের সুত্র ধরে তাদের বাসার ল্যাট্রিনের সেপটি ট্যাংক ভেঙে স্বপ্নের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আলিফ আহম্মেদ স্বপ্ন কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ছিল। আর ঘাতক রিফাত ছিল কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। দু’জনে ছিল ঘনিষ্ট বন্ধু।

কুড়িগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার  (এ সার্কেল) মাসুদ আলম জানান, আকাশসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামী রিফাত কিশোর হওয়ায় তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পুলেরহাট যশোরে পাঠানো হয় শনিবার। তার মাকে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর মিস্ত্রী আবদুস সাত্তারকে সাক্ষী করে জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আগামী ৮ জানুয়ারী মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য