স্মারকলিপি প্রদানডেক্স রিপোর্টঃ বর্তমানে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারিত থাকার পরও নানা কৌশলে কম বয়সী মেয়েদের বাল্য বিয়ে নিরোধ সম্ভব না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে রংপুরের যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক।

গতকালসোমবার দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক এর আহবায়ক সামসাদ বেগম।

স্মারকলিপিতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯ কে যুগ-উপযোগী করে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার কার্যক্রমের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাধুবাদ জানানো হয়। একই সাথে প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ এর খসড়ায়’ মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর উলে¬খ থাকলেও আইনটির ১৬ নং ধারায় ‘বিশেষ বিধান’ রেখে  ১৬ বছরের মেয়েকে বিয়ে করা ও বিয়ে দেয়ার সুযোগ রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেটওয়ার্কের নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে বাল্যবিয়ে নিরোধে মেয়েদের ১৮ বছরের নিচে বিয়ে দেয়া একটি বড় বাধা হিসেবে উলে¬খ্য করেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারিত থাকার পরও নানা কৌশলে কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে বিশেষ বিধানে কোনো বিশেষ কারণের উদ্ভব হলে পিতা, মাতা বা অভিভাবকের অথবা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ১৬ বছরের মেয়েশিশুর বিয়ে প্রদানের সুযোগ রাখলে অপরিণত বয়সে বিয়ের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একারণে সরকারকে ‘প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ এ কোনো ধরনের শর্ত আরোপ ব্যাতিরেকে মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স ১৮ বছরই রাখার জন্য দাবি জানান তরা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে নেটওয়ার্ক এর আহবায়ক সামসাদ বেগম বলেন, মেয়েদের বিয়ের বয়স আঠারোর নিচে হলে মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি, নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধিসহ অপরিণত গর্ভধারণ, ফিস্টুলা, মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ার হার এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি পাবে।  দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। আমরা যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক, রংপুর দেশের সকল নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ‘বিশেষ বিধান’ বাতিলের জন্য আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এসময় সমাজকর্মী মোসফেকা, অ্যাডভোকেট এ এ এম মুনীর চৌধুরী, নারী উন্নয়নকর্মী  সমসের আরা বিলকিস, কেরামতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো: নজরুল ইসলাম, জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি আবু সাঈদ, জান্নাতুল ফেরদৌস, গৌরি রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য