Birganj Mukto Dibos Photo-01বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ॥ ব্যাপক কর্মসুচীর মধ্যে দিয়ে পালিত হলো দিনাজপুরের বীরগঞ্জ শক্র মুক্ত দিবস।

রবিবার সকাল বীরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরীর আয়োজনে সকাল ১১টায় বীরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ হহে বর্ণাঢ়্য শোভা বের হয়। শোভা যাত্রা শেষে পুরাতন শহীদ মিনার মোড়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বীরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ খয়রুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতিত্বে আলোচনা সভা বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রহিম, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোপাল দেব শর্মা, প্রভাষক আমিনুল ইসলাম মিন্টু, বীরগঞ্জ প্রতিদিনের সম্পাদক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, বীরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক লতিফুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক রোকনুজ্জামান বিপ্লব প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে পত্রিকা বীরগঞ্জ প্রতিদিনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, পার্শ্ববর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও জেলা ৩ডিসেম্বর শক্র মুক্ত হওয়ার পর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী সৈয়দপুর (পাক বিহার) অভিমুখে পালিয়ে যাবার সময় মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে। হানাদার বাহিনী বীরগঞ্জ থেকে পিছু হটে বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলা সীমান্তের দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে ভাতগাঁও ব্রীজের পুর্ব প্রান্তে অবস্থান নেয়। এখানে পাকবাহিনী ও রাজাকারদের সাথে মুক্তিবাহিনীর তুমুল যুদ্ধে ভাতগাঁও ব্রীজের একাংশ ভেঙ্গে যায়। এ সময় বেশ কিছু মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর বীর যোদ্ধা শহীদ হন।
Birganj Mukto Dibos Photo-02
স্বাধীনতা যুদ্ধে দিনাজপুর ৬ নম্বর সেক্টরের অধীন হওয়ায় বীরগঞ্জ উপজেলা এর আওয়াতধীন ছিল। লে. কর্ণেল কাজী নুরুজ্জামান এর নেতৃতাধীন সেনাবাহিনীর হাবিদার মোস্তাফিজুর রহমান বীরগঞ্জ ও খানসামার যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়েজিত ছিলেন।

৫ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় মিত্র বাহিনীর বিমান হামলার মধ্যে দিয়ে বীরগঞ্জ শক্র মুক্ত হতে থাকে। রাতেই পুরো এলাকা মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী পুরোপুরি দখল করে নেয়। সকালে বীরগঞ্জের অলিগলিতে মুক্ত বাতাসে উড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ১৪এপ্রিল ন্যাশনাশ ব্যাংক অব পাকিস্তান বীরগঞ্জ শাখার গার্ড লক্ষীপুর জেলার লক্ষীপুর থানার দিঘলী গ্রামের মৃত. সিকান্দার আলীর পুত্র মোঃ মহসিন আলী এবং বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মদনপুর সন্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন।

এ ছাড়াও বীরগঞ্জের বীর সন্তান বুধারু বর্মন, রমেন সেন ও মতিলাল বর্মনসহ ৩জন স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের বিভিন্ন রণাঙ্গনে শহীদ হন।

২০০৮ সালে স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়টি পত্রিকায় তুলে ধরেন এবং উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবস উদযাপন প্রস্তুতি সভায় দিনটিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে পালনের দাবি জানান। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসান মারুফ আনুষ্ঠানিক ভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেই সভায় সর্ব সন্মতি ক্রমে বীরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরীকে দিবসটি পালনের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। বীরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরীর বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার পর ২০০৮সালে প্রথম বারের মত আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করা হয় বীরগঞ্জ মুক্ত দিবস।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য