06-pakistanপাকিস্তানের পেশোয়ারের একটি স্কুলে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত চারজঙ্গিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে।

নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসি বলছে, বুধবার ভোরে দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোহাট শহরের কারাগারে তাদের ফাঁসি দেয়া হয়।

সামরিক আদালতে অভিযুক্তদের বিচার শেষে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে এই চারব্যক্তি প্রথম ফাঁসিকাষ্ঠে গেলেন।

চলতি সপ্তার শুরুর দিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ চার জঙ্গি মৌলভি আবদুস সালাম, হযরত আলি, মুজিবুর রেহমান এবং সাবিলের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন।

হামলা চালানো জঙ্গিদের সহায়তা ও সামরিক পোশাক সরবরাহের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদ- দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর তালেবান জঙ্গিরা পেশোয়ারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে হামলা চালায়।

হামলায় ১৩৩ ছাত্রসহ ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত সাত বন্দুকধারীর সবাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে নিহত হন।

অভিযুক্ত কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর করা হল।

ওই নির্বিচার হত্যাকা-ের জেরে দেশটিতে ইসলামপন্থি জঙ্গি-বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিচারে প্রতিষ্ঠা করা হয় সামরিক আদালত।

দীর্ঘ ছয়বছর মৃত্যুদ- কার্যকর বন্ধ রাখার পর দেশটিতে আবার সেই সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের সিদ্ধান্ত আসে ওই হামলার পর।

হামলার দিন সকালে স্কুল চত্বরের এক পাশের দেয়ালের উপরের কাঁটাতার কেটে স্কুলটিতে প্রবেশ করে উগ্র ইসলামপন্থি তালেবান ঘাতকেরা। ওই সময় স্কুলের মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছিল।

ওই মিলায়তনে ঢুকে নির্বিচার গুলি চালিয়ে রক্তবন্যা বইয়ে দেয় তালেবান জঙ্গিরা। এরপর শ্রেণীকক্ষগুলোতে প্রবেশ করে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গুলি করে হত্যা করে। স্কুলটিতে আট ঘণ্টা ধরে তা-ব চালায় তারা।

মোল্লা ফাজুল্লাহর অনুগত পাকিস্তানি তালেবানের একটি অংশ এ হামলার দায়ও স্বীকার করে।

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানের জবাবে এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করে গোষ্ঠীটি।

অবশ্য নৃশংস ওই হত্যাকা-ের পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আফগান তালেবানও ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছিল।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য