01-কলকাতার অন্তরালে মিঠুন চক্রবর্তী!বিনোদন: বলিউডের সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী একরাশ অভিমান আর মনের কষ্ট নিয়ে চলে গেছেন কলকাতার অন্তরালে। এখন আর তার খোঁজ মিলছে না। ফোন ধরছেন না, এমনকি কলকাতায় তার নিকটজন ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গেও কোনো কথা বলছেন না। এক সময়ের বলিউডের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এ অভিনেতা কলকাতা ছেড়ে সম্ভবত মুম্বাই কিংবা অন্য কোনো স্থানে রয়েছেন।

জানা গেছে, বাঙালির প্রাণপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে তৃণমূলের রাজনীতিতে এনেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ২০১৪ সালে তাকে ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সাংসদও করেছিলেন মমতা। মিঠুনও মমতার ডাকে সাড়া দিয়ে রাজ্যব্যাপী তৃণমূলের প্রচারে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু বিধি বাম। হঠাৎ করেই সারদা কেলেঙ্কারিতে উঠে আসে মিঠুনের নাম। এর পরপরই ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটের জেরার সম্মুখীন হতে হয় এই অভিনেতাকে।

ভারতের বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠী ‘সারদা’-র ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন মিঠুন। সারদা থেকে তিনি কোটি টাকার সম্মানীও গ্রহণ করেছিলেন। মিঠুন চক্রবর্তীকে জেরা করায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। একসময় সারদার কাছ থেকে নেয়া সব অর্থই তিনি ফিরিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, এ ঘটনার পরই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মিঠুন। ক্ষোভে-দুঃখে নিজেকে মিডিয়া থেকে গুটিয়ে নেন। এমনকি পরোক্ষভাবে তৃণমূলের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তৃণমূলের নেতা-সাংসদ-মন্ত্রীরা ফোন করলেও ফোন ধরেন না মিঠুন।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে একসময় সিপিএমের সাবেক মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর সুসম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক ছিল জ্যোতি বসুর সঙ্গেও। বাম আদর্শে অনুপ্রাণিত মিঠুন চক্রবর্তীকে বামফ্রন্ট সরকারও যোগ্য সম্মান দেয়নি। মিঠুনের মতো একজন সুপারস্টার আজও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাননি। মমতার আমলেও মিঠুন যথাযোগ্য সম্মান পাননি। অনেকেরই ধারণা, এসব কারণেই মিঠুন চক্রবর্তী তার স্ত্রী যোগিতা বালি ও সন্তানদের নিয়ে কলকাতার অন্তরালে চলে গেছেন।

গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার শহীদ মিনার ময়দানে ওলামায়ে হিন্দ আয়োজিত এক জনসভায় বলেছিলেন, মিঠুন আর আমার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না ভয়ে। এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে সত্যিই কী তাহলে এবার তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছেন তৃণমূলের সঙ্গে। কারণ, তৃণমূলের সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও এখন আর রাজ্যসভার অধিবেশনেও যোগ দিচ্ছেন না মিঠুন চক্রবর্তী।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য